দুর্নীতিবাজ ও ঋণখেলাপি মুক্ত সংসদ গড়ার শপথ হাসনাত আব্দুল্লাহর

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে একটি শুদ্ধি অভিযানের শামিল। এই নির্বাচনের মূল লক্ষ্য হবে রাষ্ট্র থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা, চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গঠন এবং বড় বড় ঋণখেলাপিদের সংসদের বাইরে রাখা। 

রোববার দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নে এক আবেগঘন উঠান বৈঠকে এই মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রভাবশালী নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। 

ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই বৈঠকে হাসনাত আব্দুল্লাহ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং তাঁদের দলের আগামীর লক্ষ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। 

বক্তব্যের শুরুতেই হাসনাত আব্দুল্লাহ রাজনীতির নামে চলমান দুর্নীতি ও জনসম্পদ আত্মসাতের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমার স্পষ্ট কথা হলো, রাস্তার মাটি আর ইট খেয়ে চুরি দুর্নীতি করার চেয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ভোটের জন্য হাত পাতা বা ভিক্ষা করা অনেক বেশি সম্মানের। আমরা সেই সম্মানের পথটাই বেছে নিয়েছি। 

তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এমনকি প্রতিদিন কোনো না কোনো সাধারণ মানুষ তাঁদের নির্বাচনী তহবিলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্থ সাহায্য দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করছেন, যা তাঁকে রাজনীতিতে আরও উৎসাহিত করছে।

ভোটারদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ার ওপর জোর দিয়ে হাসনাত বলেন, আমরা মানুষের কাছে আমাদের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরছি। আমরা আকাশছোঁয়া মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছি না, যতটুকু আমাদের সাধ্যে আছে ততটুকুই বলছি। আপনাদের যদি মনে হয়, এই ছেলেটা আমার ঘরের, এই ছেলেটা আমাদের হয়ে কথা বলতে পারবে, তবেই আপনারা আমাদের জন্য কাজ করবেন। তিনি নিজেকে দেবিদ্বারের সন্তান হিসেবে তুলে ধরে ভোটারদের আবেগকে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন এবং পেশিশক্তির রাজনীতির বদলে আদর্শিক লড়াইয়ের আহ্বান জানান। এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে হাসনাত আব্দুল্লাহ দেশের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের বিষয়টি সামনে আনেন। 

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মা বাবা চান তাঁদের সন্তানরা পড়াশোনা শেষ করে মেধা অনুযায়ী যথাযথ চাকরি পাক। আমরা সেই অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। পাশাপাশি একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা চাই দেশে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোট হোক, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নির্ভয়ে তাঁর রায় দিতে পারবেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহর মতে, বিগত সময়গুলোতে দেশের অর্থনীতি ও সংসদকে জিম্মি করে রেখেছিল মুষ্টিমেয় কিছু ঋণখেলাপি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী। এবারের নির্বাচনে এই অপশক্তিকে রুখে দেওয়াই এনসিপির মূল এজেন্ডা। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন এবং সাধারণ মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ জানান। পদযাত্রার অংশ হিসেবে তিনি সীমান্তে অব্যাহত উত্তেজনা এবং আন্তঃদেশীয় সম্পর্কে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

তিনি মনে করেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণে কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন এই নেতার বক্তব্যের মূল হাইলাইটস হলো দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং ঋণখেলাপি মুক্ত সংসদ গড়া, অসততার চেয়ে মানুষের কাছে সাহায্য নেওয়াকে সম্মানের মনে করা, তরুণদের মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করা।

জেএইচআর