তাসনিম জারা

গণতান্ত্রিক জবাবদিহির পথে সবচেয়ে বড় বাধা কিছু সাংবিধানিক বিধান

আবু তাহের  প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক জবাবদিহির কাঠামো প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেছেন, সংবিধানের এমন কিছু বিধান রয়েছে, যা সংসদ সদস্যদের প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে বাধা দিচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) আয়োজিত ‘নাগরিক ইশতেহার ২০২৬, জাতীয় নির্বাচন ও রূপান্তরের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. তাসনিম জারা বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করলেও সংবিধান তাঁদের হাত-পা বেঁধে রেখেছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায়। ফলে এমপিরা স্বাধীনভাবে মন্ত্রিসভাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারেন না।

তিনি বলেন, সংসদ যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তাহলে সরকার ও ক্যাবিনেট কার্যত কোনো জবাবদিহির মুখোমুখি হয় না।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা দুর্নীতি করলে তাদের দেখার কথা দুদকের। কিন্তু দুদক কমিশনারদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি, যিনি আবার প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করেন। অর্থাৎ, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তারাই পরোক্ষভাবে নিয়োগদাতা।

এ কারণে দুদকের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিয়েও একই ধরনের কাঠামোগত দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, এমপি বা মন্ত্রীরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সোচ্চার হওয়ার কথা। কিন্তু কমিশনের সদস্য বাছাই কমিটিতেই রয়েছেন আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফলে সরকারপ্রধান বা ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে এই প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি জনপ্রতিনিধি ও সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা না যায়, তাহলে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা কখনোই সম্ভব হবে না।

এএন