আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণ এখনো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সমসাময়িক রাজনীতি ও নির্বাচনী ঐক্য নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় এখনো বাকি আছে, এমনকি নির্বাচনের আগমুহূর্তেও অনেক কিছু হতে পারে।
জুবায়ের জানান, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা, আসন বণ্টন কিংবা নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
নির্বাচনী ঐক্যের কাঠামো নিয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক জোট নয় বরং একটি নির্বাচনী ঐক্য প্রক্রিয়া। সে কারণেই এখানে নির্দিষ্ট কোনো সাংগঠনিক কাঠামো রাখা হয়নি এবং সবাই পর্যায়ক্রমে নিজ নিজ বক্তব্য রাখছেন। এটি একটি সুন্দর রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকাশ।
৫ দফা দাবি ও আন্দোলন প্রসঙ্গে জামায়াতের এ নেতা বলেন, দাবিগুলো বর্তমান বাস্তবতাকে সামনে রেখেই নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো কিছু ছিল না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। আলোচনার সুযোগ এখনো রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে আবেগী বক্তব্য এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পুনরায় আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
নির্ধারিত একটি বৈঠক না হওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত একটি মানবিক ভুল। সংশ্লিষ্ট নেতা অসুস্থ থাকায় বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন এবং পরে দুঃখ প্রকাশও করেছেন। এখানে অসম্মানের কোনো প্রশ্ন নেই।
আসন বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, জোটের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৪৭টি আসন খালি রাখা হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় এ আসনগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে লিয়াজোঁ কমিটি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে জুবায়ের বলেন, এটি জামায়াতের ঘোষিত নীতি। জনগণ যদি ভোটের মাধ্যমে দায়িত্ব দেয়, তবে তারা এককভাবে নয় বরং সব রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবে।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও পরিষ্কার করেন যে, দল বা জোটের গঠন যাই হোক না কেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাঁরা ৩০০ আসনেই প্রার্থী রাখবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইএইচ