রাজনীতির বহু ঘাত-প্রতিঘাত সয়ে যাওয়া এক জননেতা মো. শাহজাহান

ইমাম উদ্দিন আজাদ, নোয়াখালী প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

রাজনীতির বহু ঘাত-প্রতিঘাত সয়ে গেছেন নীরবে, নিভৃতে। শিকার হয়েছেন অসংখ্য হামলা-মামলার। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়ে একাধিকবার কারাবরণও করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান। তার কথা আর কাজে এক। তিনি গাঁও-গেরামের সবার নেতা। 

এক কথায় তিনি গণমানুষের প্রিয় ও আপাদমস্তক রাজনীতিক। সভ্য, ভদ্র, শান্ত, অহিংস ও শিষ্টাচারে পরিপূর্ণ এক মানুষ। চলনে-বলনে পুরোদস্তুর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের আধার।

জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির নিরিখে কথা বলেন অনবরত, সত্য ও স্পষ্ট ভাষায়। গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রেরণাদায়ক রাজনীতিক তিনি। 

নোয়াখালীর বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অভিব্যক্তি এটি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো এবং সদস্য সচিব ও সাবেক সফল মেয়র হারুনুর রশিদ আজাদসহ বর্তমান জেলা বিএনপিও তাকে জেতানোর জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু নাছেরের ভাষায় নোয়াখালীর রাজনীতির অঙ্গনের অবিসংবাদিত ও নির্লোভ রাজনীতিক মো. শাহজাহান। কর্মীদের চোখে সাংগঠনিক দক্ষতা, বিচক্ষণতা, প্রাজ্ঞতা, মেধা আর কর্মময় অবয়বের একনিষ্ঠ অধ্যায়ে পরিস্ফূটিত তাদের নেতা।

জেলার রাজনৈতিক যোদ্ধাদের ভাষায়, মো. শাহজাহান সততায় নিষ্ঠাবান। চরিত্রে পরিচ্ছন্ন। সাধারণ মানুষের জীবন পরিক্রমায় এক মিশুক প্রকৃতির শান্ত স্বভাব তার। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক রাজনৈতিক ত্যাগ, তিতিক্ষা, সংগ্রাম ও বিচক্ষণতার পথ ধরে এ মানুষটি বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান। 

তিনি নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন শেষে জাতীয় পরিসরে যুগ্ম মহাসচিব পদেও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। 

দলের নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন মো. শাহজাহান। সাংগঠনিক, গণতান্ত্রিক, গঠনতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাবে হয়তোবা বিএনপির স্থায়ী কমিটিতেও সহসাই নাম উঠবে তার।

পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক ইনু বলেন, মো. শাহজাহান দীর্ঘকাল নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে এ জনপদকে বিএনপির ঘাঁটিতে পরিণত করেছেন। বর্তমান নোয়াখালী জেলা বিএনপির দায়িত্বশীলদের প্রায়ই তার রাজনৈতিক সৃষ্ট নেতা, কর্মী বলা যায়। মো. শাহজাহান ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। তিনি বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও তৃণমূলের দল পুনর্গঠনের সমন্বয়ক। 

২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি নোয়াখালী জেলার সভাপতি ছিলেন। নভেম্বর ২০১৫ সালে তাকে পৌরসভা নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তিনি ১৯৯১ সনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ (সুবর্ণচর-নোয়াখালী সদর) আসন থেকে প্রথম বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি একই আসন থেকে ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম সংসদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে গঠিত জাতীয় সংসদের একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও ছিলেন তিনি। ছিলেন জাতীয় সংসদের অন্যতম হুইপও। 

কিন্তু, ক্ষমতার দৌরাত্ম্য তাকে কোনকালেই অমানুষ করেনি। আচার-আচরণে শিষ্টাচারিতা হারাননি তিনি। নোয়াখালী সদর ও সুবর্ণচরে সংসদ সদস্য পদে তার দায়িত্বকালীন সময়ে বিরোধী শক্তিও অহেতুক কোন মামলা, হামলা কিংবা প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন এমন কথা কেউ বলতে পারবে না।

মো. শাহজাহানের ব্যক্তিগত জীবনী বলতে গিয়ে কদমতলী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, তিনি মানুষের জন্য একনাগাড়ে বিএনপির রাজনীতি করে যাচ্ছেন। তাই সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত মো. শাহজাহানের পুরোটা জীবন। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী সংসদীয় আসন-৪ থেকে তিনি বিপুল সংখ্যক ভোটে বিজয়ী হবেন।

ইলিয়াস মিয়া আরও বলেন, মো. শাহজাহান সংসদ সদস্য পদে দায়িত্বকালীন সময়ে সদর ও সুবর্ণচরের অনেকেরই সরকারি চাকরি হয়েছে। কিন্তু, পুলিশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা প্রশাসনে কর্মরত এমন কোনো ব্যক্তির সাক্ষ্য পাওয়া যাবে না; তিনি কারো কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। 

তিনি শতভাগ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলেন, শুধু তাই নয়, তার সময়ে দলীয় কোন আচার-অনুষ্ঠান আয়োজনের নামেও কোন সরকারি দপ্তর থেকে ন্যূনতম কোনো সুবিধা নিয়েছেন এমন নজির নেই।

জানা যায়, মো. শাহজাহান ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়ে সদর ও সুবর্ণচরের গণমানুষের সুখ, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সহযাত্রায় নিজেকে অংশীদার করেন। এক সময়ের ভাঙাচোরা সেই মেঠোপথ সোনাপুর হতে হাতিয়া ঘাট, সোনাপুর হতে আক্তার মিয়ার হাট, মাইজদী হতে নোয়াহাট, দত্তবাড়ির মোড় হতে ওদার হাট পাকাকরণে নিজের অবদান অবিস্মরণীয় করে রেখেছেন ভুক্তভোগীদের কাছে। 

২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় সেসব সড়কে বিদ্যুতায়নের কথা সচেতন সমাজের অনেকের মুখে আজও উচ্চারিত হয়। নোয়াখালীর দস্যুকবলিত জনপদের দস্যুদের শৃঙ্খলিত করে অশান্তির জনপদকে শান্তি, শৃঙ্খলা ও বসবাসের পুণ্যভূমিতে রূপান্তর করেন তিনি।

জেলা শহরের নাগরিকদের জন্যে পৌর ব্যবস্থাপনায় বিশুদ্ধ পানির জলাধার স্থাপন, শিল্পকলা একাডেমি ভবন, জেলা জজকোর্ট ভবনের উন্নয়ন, মা ও শিশু হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, সুবর্ণচর উপজেলা কমপ্লেক্স, চরজব্বর থানা ভবন, শত শত কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো রেজিস্টার্ডসহ গাঁও গেরামে কমিউনিটি ক্লিনিক, সবই তার সময়ের উন্নয়ন। শিক্ষানুরাগী মো. শাহজাহানের সময়ে সদর ও সুবর্ণচরে একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা, চরমটুয়া ও চরজব্বর কলেজসহ অনেকগুলো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে।

তার আন্তরিক চেষ্টায় নোয়াখালী সরকারি কলেজ পুরনো ক্যাম্পাস ছেড়ে অনার্স, মাস্টার্স নিয়ে নতুন ক্যাম্পাস পেয়েছে। এক কথায় নাগরিক জীবনের সঙ্গে মিশে আছেন মো. শাহজাহান। সদর ও সুবর্ণচরবাসীর প্রাণের যেন মহাপ্রাণ তিনি।

ইএইচ