বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত রাজনীতিকে কোনো নেশা বা পেশা হিসেবে নয়, বরং একটি পবিত্র কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে দলীয় উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
কঙ্কালসার দেশ গড়ার প্রত্যয় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে লুটপাটের মাধ্যমে দেশটাকে প্রায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে একটি কঙ্কাল পেয়েছি। তবে এই কঙ্কালকেই আমরা একটি জীবন্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশে রূপান্তর করব।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, দেশ থেকে স্বৈরাচার বিদায় নিলেও ‘স্বৈরমানসিকতা’ এখনো নির্মূল হয়নি, যা দূর করতে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান ও বুদ্ধিবৃত্তিক রেমিট্যান্স দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমাদের কেবল আর্থিক রেমিট্যান্স নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক রেমিট্যান্সও প্রয়োজন। মেধাবী প্রবাসীরা দেশে ফিরে আসুন, আমরা আপনাদের সাদরে বরণ করতে প্রস্তুত।
শিক্ষা ও ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব সামিটে ডা. শফিকুর রহমান দুটি মৌলিক লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। প্রথমত, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা এবং দ্বিতীয়ত, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
তিনি বলেন, বিচারের ক্ষেত্রে ব্যক্তির প্রভাব বা পদবি দেখা উচিত নয়। সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই রাষ্ট্র তার সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।
বিলাসিতা পরিহারের অঙ্গীকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে জামায়াতের মন্ত্রী-এমপিরা সব ধরনের বিলাসিতা পরিহার করবেন। রাষ্ট্রের শুধু সেই সুযোগ-সুবিধাটুকুই নেওয়া হবে যা গ্রহণ না করলেই নয়। জনগণের মুখে হাসি ফোটানোই হবে আমাদের রাজনীতির মূল সার্থকতা।
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ পলিসি সামিটে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদগণ উপস্থিত ছিলেন। দলের পক্ষে আরও বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মু. তাহের, মাওলানা আ.ন.ম. শামসুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জেএইচআর