প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা, অর্থসম্পদ ও দেশপ্রেম- এই তিন শক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলে দেশ আত্মনির্ভরশীল উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
মঙ্গলবার প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল বাংলাদেশি এক্সপেট্রিয়েটস সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আনস্কিল্ড লেবারের পরিবর্তে স্কিল্ড ওয়ার্কার বিদেশে পাঠাতে পারলে প্রবাসীরা যেমন বেশি আয় করতে পারবেন, তেমনি দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে জাতির সামনে সুস্পষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ড. মঈন খান বলেন, প্রবাসী রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশ দেশে এসে কেবল ভোগ ব্যয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে, বিনিয়োগে রূপ নিচ্ছে না। ফলে দীর্ঘদিন বিদেশে কাজ করে দেশে ফেরা অনেক প্রবাসী কয়েক বছরের মধ্যেই আবার অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছেন, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি প্রস্তাব করেন, ক্ষুদ্র রেমিট্যান্সগুলো একত্রিত করে একটি বিনিয়োগ ফান্ড গঠন করা হলে শিল্পকারখানা ও বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।
এলডিসি থেকে উত্তরণ বিলম্বের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, কিছু ব্যবসায়ীর চাপের কারণে এই প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়া হলে তা দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, তিনি নিজে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বিদেশে চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং দেশপ্রেম থেকেই দেশে ফিরে এসেছিলেন। আজ প্রবাসীদের মধ্যেও একই দেশপ্রেম তিনি দেখতে পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রবাসীদের জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন রাখার দাবি জানায় ৷ দেড় কোটি প্রবাসীদের পক্ষে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারা পরবর্তী সরকারের কাছে এই আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষাংশে মঈন খান বলেন, ভবিষ্যৎ সরকার প্রবাসীদের এই উদ্যোগকে সর্বাত্মকভাবে সমর্থন দেবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ একটি স্বাবলম্বী ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
এএন