ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন ও জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের বঞ্চিত করার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হবিগঞ্জ জেলা শাখার ১৩ জন নেতা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা এই ঘোষণা দেন।
পদত্যাগকারী নেতৃবৃন্দ পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পলাশ মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নূরুল হক টিপু, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ মনির, যুগ্ম সদস্য সচিব সিরাজুল হক সজিব, শেখ রুবেল আহমেদ, সালমা হাসান, সঞ্জয় দাশ, সদস্য মো. হারুন মিয়া, মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন, এএইচএম শফিউল আলম খান, মো. জাহিদ মিয়া ও সোফায়েল আহমেদ।
হতাশা ও অভিযোগের পাহাড় সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠনের সময় ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং জুলাই যোদ্ধাদের পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। মধ্যপন্থার রাজনীতির অঙ্গীকার নিয়ে এনসিপি গঠিত হলেও মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে দলটি দুটি জোটের সাথে যুক্ত হয়ে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে। এ ছাড়া দলের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
পদত্যাগকারী নেতারা আরও দাবি করেন, তৃণমূলে জুলাই আন্দোলনের সাথে যুক্ত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অনুগত শ্রেণি তৈরির চেষ্টা চলছে এবং জেলা কমিটি সাংগঠনিকভাবে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে জুলাই যোদ্ধারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এনসিপির বিদায়ী সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পলাশ মাহমুদ বলেন, আমরা পদত্যাগপত্র জেলা কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠিয়েছি। আপাতত মধ্যপন্থার কোনো রাজনীতি দেশে দৃশ্যমান নেই। এনসিপি যদি ভুল সংশোধন করে অথবা নতুন কোনো দল একাত্তর ও চব্বিশের চেতনা ধারণ করে রাজনীতিতে আসে, তবেই আমরা যুক্ত হওয়ার কথা ভাবব। অন্যথায় সাধারণ নাগরিক হিসেবেই থাকব।
জেএইচআর