কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে আজ এক আবেগঘন ও সাহসী বক্তব্য প্রদান করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈরী আবহাওয়া ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতাকে তুচ্ছজ্ঞান করে তিনি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বলেছেন, বিগত বছরগুলোর চরম দমন-পীড়নের মধ্যেও আমি আপনাদের ছেড়ে পালাইনি, ভবিষ্যতেও এই দেশ ও জনগণকে ছেড়ে কোথাও যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে শনিবার সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, সারা দেশের মানুষ এখন ১৩ তারিখের অপেক্ষায়। তারা একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চায়। এই পরিবর্তন আসবে এ দেশের অকুতোভয় যুবসমাজের স্বপ্নের ওপর ভর করে এবং আমাদের মা-বোনদের মর্যাদাপূর্ণ আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে। মানুষ আর কোনো স্বৈরতন্ত্র বা আধিপত্যবাদ দেখতে চায় না। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে নারীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির।
প্রতিপক্ষকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মা-বোনদের গায়ে হাত দেবেন, আর আমরা ঘরে বসে নিরব দর্শক হয়ে থাকব কমা এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। মায়েদের অমর্যাদা করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যথায় এর পরিণতি শুভ হবে না।
জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে প্রতিপক্ষের চালানো নানা নেতিবাচক প্রচারণার কড়া জবাব দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, একটি পক্ষ মানুষের মনে ভয় ধরাতে বলছে যে কমা আমরা ক্ষমতায় গেলে নাকি কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেব বা ইমাম কমা খতিবদের বের করে দেব। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এগুলো জঘন্য মিথ্যাচার। যারা ইসলামের সেবক, যারা মানুষ গড়ার কারিগর, তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি করাই আমাদের লক্ষ্য। সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জামায়াত আমির একটি নতুন নীতিমালার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আমরা এমন এক সমাজ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জান কমা মালের নিরাপত্তা থাকবে। যারা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত, তাদের আমরা প্রথমত সংশোধন হওয়ার সুযোগ দেব। সতর্ক করার পরেও যদি তারা ভালো না হয়, তবে তাদের এই অন্যায়ের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। ইনসাফের রাজত্বে কোনো অপরাধীর রেহাই নেই।
চৌদ্দগ্রামের এই জনসভা কেবল একটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়, বরং এটি ছিল ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি একটি আস্থার বার্তা। জামাতের এই শীর্ষ নেতার বক্তব্য উপস্থিত হাজারো নেতা কমা কর্মীর মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
প্রতিকূল সময়েও দেশ না ছাড়ার অঙ্গীকার, যুব ও নারী শক্তির মাধ্যমে আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়া, সামাজিক ও ধর্মীয় স্তরের সুরক্ষা এবং চাঁদাবাজি নির্মূলের এই আহ্বান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট বক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জেএইচআর