দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ যশোরের মাটিতে প্রথমবার নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিতে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বিবেচিত তারেক রহমান। যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ভোর থেকেই সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা জনসভাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছেন।
সোমবার সকাল থেকেই দেখা গেছে, যশোর-নড়াইল ও যশোর-মাগুরা সড়ক দিয়ে ট্রাক, পিকআপ ও বাসে চড়ে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশ অভিমুখে আসছেন। নেতা-কর্মীদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা, মাথায় রঙিন ক্যাপ এবং মুখে ‘তারেক রহমান আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান।
সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে আসা কৃষক দল নেতা ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে এবং তাঁর দিকনির্দেশনা শুনতে আমরা সাতক্ষীরা থেকে ৪০ জনের দল নিয়ে এসেছি। তারেক রহমান আমাদের নতুন আশার প্রতীক।
দুপুর ২টার দিকে তারেক রহমান হেলিকপ্টারযোগে যশোর পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জনসভার মূল কর্মসূচির আগে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহতদের জন্য নির্ধারিত গ্যালারিতে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন।
২২ প্রার্থীকে পরিচয়: যশোর, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলার মোট ২২ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীকে তিনি জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেবেন।
প্রতীক তুলে দেওয়া: মনোনীত প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক তুলে দেবেন তারেক রহমান।
ভবদহ সমস্যার সমাধান: যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘ভবদহ’ জলবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবেন তিনি।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক জানিয়েছেন, জনসভাটি শহরের মূল কেন্দ্র থেকে সরিয়ে উপশহরে নেওয়ার মূল কারণ হলো সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমাবেশে সাত জেলার অন্তত দুই লাখের বেশি মানুষ অংশ নেবেন।
যশোর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, তারেক রহমানের প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের যে আবেগ ও ভালোবাসা আছে, তা আজ উপশহরের জনসমুদ্র প্রমাণ করবে। আমরা কেবল ভোট চাইছি না, আমরা জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সুশাসন নিশ্চিতের অঙ্গীকার নিয়ে মানুষের দ্বারে এসেছি।
বড় ধরণের জনসমাগমকে কেন্দ্র করে যশোর জেলা পুলিশ ও প্রশাসন তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। সমাবেশস্থলে পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
পার্কিং ব্যবস্থা: বিভিন্ন জেলা থেকে আসা গাড়ির জন্য আলাদা পার্কিং জোন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য: জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যাতায়াতের রাস্তাগুলো সিসিটিভি ও ড্রোন নজরদারিতে রাখা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
যশোরের এই জনসভা কেবল একটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়, বরং এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিএনপির শক্তির এক বিশাল মহড়া। তারেক রহমানের আজকের ভাষণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এ অঞ্চলের ভোটারদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এএন