ঢাকা-১১ আসনে সহিংসতা ও লাশের রাজনীতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।
তার অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মানুষের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে নির্বাচনে জয়ের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর রামপুরার কুঞ্জবন এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগের সময় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা-১১ আসন থেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত তার ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং সমর্থকদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন কতগুলো ব্যানার ছেঁড়া হচ্ছে, তা খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন। আমার আসনেই যদি এ অবস্থা হয়, তবে অন্য আসনগুলোর পরিস্থিতি কেমন তা সহজেই অনুমেয়।’ এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে ক্ষোভ জানান তিনি।
নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব গোপন করার অভিযোগ তুলেছেন নাহিদ।
তিনি বলেন, ‘নির্ভরযোগ্য সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি তিনি দ্বৈত নাগরিক। বিষয়টি গোপন করে তিনি তথ্য জমা দিয়েছেন। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা এর প্রতিকারে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। এখন আইনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ এনসিপি নেতা বলেন, নির্বাচন ঘিরে আবারও সেই পুরোনো লাশের রাজনীতি দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ আমলে যা যা ঘটেছে, তার পুনরাবৃত্তি শুরু হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন কেন্দ্র দখল হবে না, এমন কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না।
দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে কোনো বিদেশি বা আধিপত্যবাদী শক্তির হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি মন্তব্য করেন, কোনো শক্তি যদি বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পাঁয়তারা করে, তবে দেশের সচেতন জনগণই তার যোগ্য জবাব দেবে।
গণসংযোগে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। তারা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
ইএইচ