পতেঙ্গা সৈকতে সুরের মূর্ছনা

তরুণদের সঙ্গে আঞ্চলিক গানে মাতলেন আমীর খসরু

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

সাগরিকা পতেঙ্গার আকমল আলী রোডের বেড়িবাঁধ এলাকা। পড়ন্ত বিকেলের স্নিগ্ধ রোদে সমুদ্রের গর্জন আর নোনা বাতাসের মাঝে বেজে উঠল চট্টগ্রামের কালজয়ী সেই আঞ্চলিক গানের সুর, কইলজ্যার ভিতর গাতি রাইখখুম তোঁয়ারে। তবে এবারের দৃশ্যপট কিছুটা ভিন্ন। একদল তরুণ তুর্কির সাথে গিটারে তাল মিলিয়ে সেই সুরের মায়ায় ভাসলেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের এ প্রার্থী গত বৃহস্পতিবার বিকেলে যোগ দিয়েছিলেন ইয়ুথ টক নামক এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে। যেখানে রাজনীতির গাম্ভীর্য ছাপিয়ে প্রধান উপজীব্য হয়ে উঠেছিল তারুণ্যের উচ্ছ্বাস আর মাটির গান।

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এ আড্ডার একটি ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একদল তরুণ হাতে গিটার নিয়ে চট্টগ্রামের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রেম ও বিরহের গানটি গাইছেন। গানের কথাগুলো ছিল কলিজার ভেতর গেঁথে রাখব তোমাকে, বুকের সঙ্গে বেঁধে রাখব তোমাকে।

গানের এক পর্যায়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজেও তরুণদের সাথে কণ্ঠ মেলান। রাজনীতির কঠিন ময়দান থেকে ক্ষণিকের বিরতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মতো সুরের সাথে তার এ মিতালী দেখে সেখানে উপস্থিত তরুণেরা করতালিতে ফেটে পড়েন। 

অনেকেই বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার এটি এক কার্যকর কৌশল। গানের আড্ডা শেষে ইয়ুথ টক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে তিনি তরুণদের ভাবনা ও আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় বলি তরুণরাই ভবিষ্যৎ দেশ গড়বে, কিন্তু তাদের মনের কথা শোনার মতো সময় আমাদের নেই। তরুণদের নিয়ে নীতিনির্ধারণ করতে হলে তাদের স্বপ্ন, চাওয়া-পাওয়া এবং চাহিদাগুলো বুঝতে হবে। আজকের এ আয়োজন থেকে আমি নিজেও অনেক কিছু শিখে গেলাম। দেশ গড়তে হলে কেবল ওপর থেকে নির্দেশনা দিলে হবে না, সবার কথা শুনতে হবে।

তরুণরা কী ভাবছে, আমরা কোথায় ভালো করতে পারি, এসব জানতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন যে, একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়তে হলে সবাইকে নিয়ে এগোতে হবে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপনই বড় চ্যালেঞ্জ।

তরুণদের এ আড্ডায় বিএনপির আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনজুর আলম, সদস্য সরফরাজ কাদের, বিএনপি নেতা মো. আশরাফ এবং চিকিৎসক ফারহানাজ মাবুদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার তরুণ প্রতিনিধিরা এ আলোচনায় অংশ নেন। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সবসময়ই একজন মার্জিত ও আধুনিক নেতা হিসেবে পরিচিত। 

তবে এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের সাথে এভাবে সরাসরি মিশে যাওয়ার বিষয়টি একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পতেঙ্গার সাগরপাড়ে বসে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সাথে তার কণ্ঠ মেলানোকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন মাটির মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা হিসেবে।

সৈকতে উপস্থিত এক তরুণ ভোটার বলেন, একজন সিনিয়র নেতার পাশে বসে এভাবে গান গাওয়া বা সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাব ভাবিনি। তিনি যেভাবে আমাদের গানের সাথে সুর মেলালেন, তাতে মনে হলো তিনি আমাদেরই একজন। 

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বন্দর-পতেঙ্গা আসনের এ প্রার্থীর কইলজ্যার ভিতর গাতি রাইখখুম গানে গলা মেলানো কেবল একটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নয়, বরং এটি ভোটারদের কলিজায় জায়গা করে নেওয়ার এক আবেগঘন প্রচেষ্টা। তরুণদের দাবি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আমীর খসরু শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে কতটা সুবিধা পান, তা ১২ ফেব্রুয়ারিই স্পষ্ট হবে।

ইএইচ