সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে শুরু হওয়া ১৮ দিনের দীর্ঘ নির্বাচনী পথচলা শেষে আবেগঘন পরিবেশে প্রচারণা সম্পন্ন করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় উদ্যানে তাঁর পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতের মাধ্যমে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শেষ করলেন।
সোমবার দিনভর রাজধানীর ৮টি স্থানে নির্বাচনী জনসভা শেষে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জিয়া উদ্যানে পৌঁছান তারেক রহমান। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সুরা ফাতিহা ও বিশেষ দোয়া পাঠ করেন। মোনাজাতের সময় জুলাই বিপ্লবের শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে সফলতার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন তিনি। মোনাজাত শেষে বেশ কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরা এই শীর্ষ নেতাকে।
প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে তারেক রহমান ভোটারদের উদ্দেশে একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান এবং নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি তাঁর বক্তব্যগুলোতে বারবার উঠে এসেছে। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ভোট দিতে যাবেন, যেন কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি আপনাদের এই অধিকার কেড়ে নিতে না পারে।
প্রচারণা শেষ করার আগে সোমবার রাত ৮টায় তারেক রহমান বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে নির্বাচনী ভাষণ প্রদান করেন। সেখানে তিনি জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য যে, আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ হয়েছে। এখন কেবল অপেক্ষার পালা ১২ ফেব্রুয়ারির, যেদিন দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ব্যালট যুদ্ধে শামিল হবে বাংলাদেশ।
এএন