ভোট হোক উৎসবের, ভাঙন না ধরুক ব্যক্তিগত সম্পর্কে, দেবিদ্বারে সম্প্রীতির ডাক হাসনাত আব্দুল্লাহর

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম

দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত বাংলাদেশের মানুষ আজ এক নতুন ভোরে জেগেছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে কুমিল্লার দেবিদ্বার কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সম্প্রীতির এক বিরল উদাহরণ পেশ করলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। 

নির্বাচনী লড়াইকে ব্যক্তিগত আক্রোশে রূপ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট একটি উৎসবের নাম, এটি ভয়ের কোনো বিষয় নয়। যার যাকে খুশি ভোট দিন, কিন্তু শুধুমাত্র ভোটের কারণে যেন আমাদের সামাজিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি না ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন ও নিজের ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব দেন তরুণ প্রজন্মের ওপর। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় এবার প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার নতুন ভোটার রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের এই নতুন প্রজন্ম গত দেড় দশকে কোনো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। আজ তাদের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সকাল থেকেই যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে, তা প্রমাণ করে এদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য কতটা তৃষ্ণার্থ ছিল। উৎসবমুখর পরিবেশের কথা বললেও মাঠপর্যায়ে কিছু অশুভ তৎপরতার ইঙ্গিত দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির এই দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক। 

তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরে ভোটারদের কেন্দ্রে না আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যারা জুলাইয়ের স্মৃতি ভুলে যেতে চায় এবং যারা দেশের অর্থ লুণ্ঠন করে ঋণখেলাপি হয়েছে, তারা একজোট হয়ে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে। এমনকি আমার বিরুদ্ধে ভোট দিলে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের বীর জনতা এই ভয় উপেক্ষা করে কেন্দ্রে হাজির হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ অর্থাৎ দেবিদ্বার আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধি হাসনাত আব্দুল্লাহ, অন্যদিকে অভিজ্ঞ প্রার্থীরা। এই আসনের নির্বাচনী তথ্যচিত্র অনুযায়ী হাসনাত আব্দুল্লাহ দেবিদ্বারের নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। তিনি এনসিপি, জামায়াত ও অন্যান্য সমমনা দল নিয়ে গঠিত ১১ দলীয় জোটের হয়ে লড়ছেন। তাঁর মূল বার্তা হলো সামাজিক সম্প্রীতি ও নির্ভয়ে ভোটদান। ১ লাখ ৩০ হাজার নতুন ভোটারের এই আসনে তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে হাসনাত আব্দুল্লাহ নিশ্চিত করেন। তবে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানান যেন বিকেল পর্যন্ত এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। 

তিনি বিশ্বাস করেন যে যদি স্বচ্ছতা বজায় থাকে, তবে দেবিদ্বারের মানুষ যোগ্য নেতৃত্বকেই বেছে নেবে। হাসনাত আব্দুল্লাহর এই সম্প্রীতির রাজনীতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। যেখানে নির্বাচনের সময় বিভেদ আর হানাহানি তুঙ্গে থাকে, সেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষার এই আহ্বান নতুন রাজনীতির ইঙ্গিত বহন করে। এখন দেখার বিষয়, ১ লাখ ৩০ হাজার তরুণ ভোটারের এই জোয়ার হাসনাত আব্দুল্লাহর জন্য শেষ পর্যন্ত কতটা সুখবর বয়ে আনে।

জেএইচআর