এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ রুমিন ফারহানার

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

ভোর থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের কেন্দ্রগুলোতে ছিল ভোটারদের ভিড়, কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে নির্বাচনী মাঠের উত্তাপ রূপ নিয়েছে অভিযোগে। সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাঁস প্রতীক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অভিযোগ তুলেছেন যে, তাঁর ৯টি ভোটকেন্দ্র থেকে নির্বাচনী এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিনা অপরাধে তাঁর তিন সক্রিয় কর্মীকে পুলিশের পক্ষ থেকে আটক করার অভিযোগও করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সামনে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। ভোট দিয়ে বের হয়েই রুমিন ফারহানা তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 

তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর মাত্র দুই ঘণ্টা পার হয়েছে। এর মধ্যেই খবর আসছে আমার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় নয়টি কেন্দ্র এখন এজেন্টশূন্য অবস্থায় রয়েছে।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জানান যে তাঁর তিনজন কর্মীকে বিনা কারণে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনীকে জানিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে আশুগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন মৃধা ও নূর আলম নামের দুই কর্মীকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, দুর্গাপুর ইউনিয়নের সোহাগপুর আছিয়া সফিউদ্দীন আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা নাছির মুন্সিকে আটক করে পুলিশ।

আটকৃতরা সবাই রুমিন ফারহানার নির্বাচনী কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে প্রশাসনের দাবি ভিন্ন। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, ভোটকেন্দ্রের শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থেই সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে। এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াইটি হচ্ছে দ্বিমুখী। একদিকে রয়েছেন বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, অন্যদিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের প্রতীক খেজুর গাছ এবং রুমিন ফারহানা হাঁস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা গত রোববার হঠাৎ করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় এই আসনে ভোটের লড়াই নতুন মোড় নিয়েছে। জাতীয় পার্টির সমর্থন রুমিন ফারহানার দিকে যাওয়ার গুঞ্জন থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটযুদ্ধে সরাইল ও আশুগঞ্জের সাধারণ মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে রুমিন ফারহানার এই অভিযোগ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুরো দিনের ভোট এখনো বাকি। এখনই ভোটের ফলাফল বা সুষ্ঠুতা নিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এভাবে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হলে জনরায়ের সঠিক প্রতিফলন হবে কি না তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

আশুগঞ্জ ও সরাইলের বিভিন্ন কেন্দ্রে অতিরিক্ত সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ও বিশেষ আক্রমণাত্মক দল মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে ম্যাজিস্ট্রেটদের সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই হাঁস বনাম খেজুর গাছের লড়াই এখন সারা দেশের মানুষের কাছে অন্যতম আলোচিত বিষয়। রুমিন ফারহানার অভিযোগ কতটুকু সত্য এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয় তাঁর ওপরই নির্ভর করছে এই আসনের চূড়ান্ত ফলাফল। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে এবং এরপরই জানা যাবে সরাইল ও আশুগঞ্জবাসী তাদের নতুন অভিভাবক হিসেবে কাকে বেছে নিলেন।

জেএইচআর