নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সন্ধানে ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনী লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক  প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম

বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৯ আসনে এক ভিন্নধর্মী প্রচারণার সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয়রা। প্রথাগত পোস্টার, মাইকিং বা বিশাল জনসভার বিপরীতে এই আসনের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী ছিলেন ডা. তাসনিম জারা। ৩১ বছর বয়সী এই তরুণ চিকিৎসক অক্সফোর্ড থেকে পড়ালেখা শেষ করে দেশে ফিরেছেন কেবল একটি লক্ষ্য নিয়ে—বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চর্চা শুরু করা।

এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডা. জারা জানান, রাজনীতিতে আসার পেছনে তার প্রধান দুটি কারণ কাজ করেছে। 

১. পদ্ধতিগত পরিবর্তন: একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি অনেক রোগীকে সেবা দিতে পারেন, কিন্তু স্বাস্থ্য খাতের পুরো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনতে হলে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বা সংসদে থাকা প্রয়োজন।

২. নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি: বংশপরম্পরা এবং দুর্নীতির বলয় ভেঙে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা গড়ার স্বপ্ন থেকেই তার এই পদযাত্রা।

প্রাথমিকভাবে জারা জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে তার দলের সঙ্গে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর জোট হওয়ার সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন।

জারার প্রচারণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এর পরিচ্ছন্নতা। তিনি শহরের সৌন্দর্য রক্ষায় কোনো পোস্টার ব্যবহার করেননি। এর বদলে তিনি দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোটারদের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তার ইশতেহার পৌঁছে দিয়েছেন। 

তার নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ছয়টি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে 'নো সার্ভিস, নো বিল' (সেবা না দিলে বিল নেই) নীতি বাস্তবায়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসন ও স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪,৬৯,৩৬০ জন। এখানে ডা. জারার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশীদ। ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি তরুণ ও সচেতন ভোটারদের নজর কেড়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী এই নির্বাচনকে ডা. জারা একটি 'উইন্ডো' বা সুযোগ হিসেবে দেখেন, যেখানে সাধারণ মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া গণতন্ত্রকে সুসংহত করার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের ওপর বর্তায়। 

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হবে যেন কোনো স্বৈরাচার আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং জনগণকে বারবার নিজের জীবন বা অঙ্গ হারিয়ে প্রতিবাদ করতে না হয়।

এএন