মাহদী আমিন

তারেক রহমানের সরকার হবে জনকল্যাণমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম

দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক নির্বাসন ও রাজপথের কঠোর সংগ্রাম শেষে অবশেষে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের আসন্ন সরকার হবে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘জনকল্যাণমূলক সরকার’। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।

নির্বাচনী ফলাফলে বিএনপির নিরঙ্কুশ আধিপত্য নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় মাহদী আমিন বলেন, এই বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নয়, এই বিজয় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের। এটি গণতন্ত্রের বিজয়। দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে এবং তারা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, দেশের মানুষ তারেক রহমানের ওপর যে অকৃত্রিম আস্থা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করেছে, তার প্রতিফলন দেখা গেছে ব্যালট বাক্সে।

বিএনপি আগেই ঘোষণা করেছিল যে, জয়ী হলে তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী সরকার প্রধান। মাহদী আমিন আজ আবারও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের যে গভীর আস্থা ও ভালোবাসা আমাদের নেতা তারেক রহমান অর্জন করেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি তার যথাযথ মর্যাদা দেবেন। তিনি দেশের প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবেন।”

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের জোটভুক্ত দলগুলো দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন লাভ করেছে। গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন আগামী সরকার কেমন হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, “বিএনপির সরকার হবে একটি জনকল্যাণমূলক সরকার। আমাদের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতায় থাকা নয়, বরং জনগণের সেবা করা। গত কয়েক বছরে দেশে যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা মেরামত করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমানের নেতৃত্বে কাজ করবে বিএনপি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ২৪ বছর পর (২০০১ সালের পর পূর্ণ মেয়াদে) বিএনপি আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এটি দলটির জন্য যেমন বড় সাফল্য, তেমনি দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণের এক বিশাল চ্যালেঞ্জও বটে।

বিজয় উদযাপন নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের এই বিজয়কে সুশৃঙ্খলভাবে গ্রহণ করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।

বিএনপির এই বিশাল বিজয় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। দেশবাসীর এখন মূল কৌতুহল কবে নাগাদ নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারে তারেক রহমানের সরকার কী কী পদক্ষেপ নেয়।

এএন