জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেছেন, আমরা ৩০টি নির্দিষ্ট আসনে ভোটের ফলাফল পুনর্গণনার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছি। এসব আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর সাথে বিজয়ী প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান খুবই নগণ্য কোথাও এই ব্যবধান ১০ হাজারেরও কম।
জামায়াত নেতাদের দাবি, ভোট গণনার সময় তারা জয়ের সুষ্পষ্ট বার্তা পাচ্ছিলেন, কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে রহস্যজনকভাবে তাদের প্রার্থীদের পরাজিত দেখানো হয়েছে। এই ‘অস্বচ্ছতা’ দূর করতে তারা আইনি পদক্ষেপ হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ স্থগিত রাখার জন্য উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জামায়াত যেসব আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে- পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩ ও ৫, লালমনিরহাট-১ ও ২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, যশোর-৩, খুলনা-৩ ও ৫, বরগুনা-১ ও ২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ঢাকা-৭, ৮, ১০, ১৩ (রিকশা প্রতীক), ১৭ এবং গোপালগঞ্জ-২, ময়মনসিংহ-১ (রিকশা প্রতীক), ৪ ও ১০, কিশোরগঞ্জ-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ এবং কক্সবাজার-৪।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের এজেন্ট, সমর্থক এমনকি নারীরাও প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, সহিংসতায় ইতিমধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে ফলাফল ঘোষণায় অস্বাভাবিক দেরি করা হয়েছে, আবার কোথাও তড়িঘড়ি করে ফল দেওয়া হয়েছে। এই সমন্বয়হীনতা অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।
জামায়াত নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, তারা তাদের কর্মীদের সহিংসতা রুখতে ব্যর্থ হচ্ছে। একটি 'ফ্যাসিবাদমুক্ত' নতুন বাংলাদেশে এমন আচরণ কাম্য নয়।
জামায়াত নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জনগণের রায়ের সঠিক প্রতিফলন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ও আদালত—উভয় ক্ষেত্রেই সোচ্চার থাকবেন।
এএন