ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী দেশব্যাপী হামলা, সহিংসতা ও অনিয়মের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোট। সমাবেশ থেকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত, শহীদ হাদীসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার, ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জোট নেতারা। একই সঙ্গে জনগণের রায় অমান্য করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সোমবার বিকেলে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ-এর উত্তর গেটে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হাইকোর্ট মোড় পর্যন্ত গিয়ে তা শেষ করেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক স্বপ্ন নির্বাচনী ম্যানিপুলেশন, অনিয়ম ও সহিংসতায় ভেঙে গেছে। ফলাফল ঘোষণায় যে অনিয়ম হয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান তিনি। অনেক কেন্দ্রে ‘না’ ভোট ও ধানের শীষের ভোট সমান হয়েছে, যা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন,নতুন রাষ্ট্র গঠনে জুলাই সনদ মেনে নিতে হবে। এতে একচুলও পরিবর্তন জনগণ মেনে নেবে না। সংখ্যাগরিষ্ঠতার নামে যদি জনগণের রায় অমান্য করা হয়, তাহলে তার পরিণতি ফ্যাসিবাদের মতোই হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে আবারও গণআন্দোলন গড়ে উঠবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশে খেলাফত মজলিস-এর আমির মামুনুল হক বলেন, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পর আবারও নির্যাতন, নিপীড়ন ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ওরা শুধু ভোট চুরি করেনি বরং ডাকাতি করেছি। পার্লামেন্টে যে ভোট ডাকাতরা গেছে তাদেরকে ১১ দল রাজপথে জবাব বুঝে নিবে।
তিনি বলেন, ওসমান হাদি ভাইয়ের বিচারের দাবিতে মাঠে গেছি। সরকার ও প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাবো দ্রুত বিচার করার। আমাদের এতদিন বলা হয়েছে নির্বাচন ও বিচার মুখোমুখি না করার। আমরা না মরিয়া প্রমাণ করেছি আমরা নির্বাচন বিরোধী না। আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র চাই, সংস্কারে জনগণ হ্যাঁ এর পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। চাঁদাবাজি দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, রাজপথে সংগ্রাম জারি রাখতে হবে আমার বোনদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে। প্রত্যেকটি হিসাব আমরা ইঞ্জিনিয়ার তারেক রহমানের কাছে বুঝে নিবো। আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায়না। বাংলাদেশের মানুষ হতাশ হবেননা, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।
আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর প্রতিবেদনে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে নির্বাচনের ওপর লেগে থাকা কলঙ্ক মোচনের দাবি জানান তিনি।
অলি আহমেদ-এর সন্তান ও এলডিপি নেতা ওমর ফারুক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা রেখে তারা ভুল করেছেন। নির্বাচনে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তিনি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং নির্বাচনের পর নতুন করে হামলা ও সহিংসতা শুরু হয়েছে।
জেএইচআর