এমপি হিসেবে জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
শপথ নিচ্ছেন জামায়াত ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের পর আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে এই শপথ অনুষ্ঠান কেবল সদস্যপদ গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; জুলাই সনদের রূপরেখা ও গণভোটের রায় অনুযায়ী তারা একইসঙ্গে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলা ১২টা ২০ মিনিটের দিকে সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।

উল্লেখ্য, সাধারণত স্পিকার শপথ পাঠ করালেও বর্তমান সাংবিধানিক শূন্যতার কারণে সংবিধানের ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই দায়িত্ব পালন করেন।

এবারের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি ছিল ভিন্নধর্মী। জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান-এর নেতৃত্বে দলের ৬৮ জন এমপি এবং স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী ৭ জন প্রার্থী প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। ১২টা ২৪ মিনিটে তারা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

ঠিক এর তিন মিনিট পর, ১২টা ২৭ মিনিটে তারা পুনরায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ (CRC)-এর সদস্য হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ পাঠ করেন। এই পরিষদে দেওয়া শপথে তারা আইন অনুযায়ী বিশ্বস্ততার সাথে দায়িত্ব পালন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সংবিধান সংস্কারে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে ৭ জন প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তবে একটি নাটকীয় ঘটনার অবতারণা হয় যখন রুমিন ফারহানা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর শপথ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। তিনি দ্বিতীয় শপথের সময় অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাদের ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়লাভ করেছে। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির ৯৫ শতাংশ সদস্যই এবার প্রথমবার সংসদে পা রাখছেন, যা দেশের রাজনীতিতে এক নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এই জোড়া শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে জুলাই গণভোটের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হলো। আগামী ১৮০ দিন এই সংসদ সদস্যরাই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দেশের শাসনতন্ত্রের আমূল পরিবর্তনের কাজ করবেন। বিএনপির এমপিরা সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলেও জামায়াত ও স্বতন্ত্রদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ সংসদের ভেতরে নতুন এক মেরুকরণের আভাস দিচ্ছে।

সংসদ ভবনের আজকের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা পূর্ণতা পেল। আজ বিকেলেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথের মাধ্যমে শুরু হবে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। জনগণের দেওয়া বিপুল রায়ে গঠিত এই সংসদ কতটা কার্যকরভাবে সংবিধান সংস্কার করতে পারে, সেটিই এখন বড় দেখার বিষয়।

এএন