ইশরাক হোসেন

দল যদি মনোনয়ন দেয় তবে মেয়র নির্বাচন করব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আগামীর মেয়র নির্বাচনে নিজের অংশগ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, দল যদি যোগ্য মনে করে এবং মনোনয়ন প্রদান করে, তবেই নির্বাচনী ময়দানে নামব। 

শনিবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালামের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে। যদি দল মনে করে যে আমি নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত এবং আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তবে আমি অবশ্যই অংশগ্রহণ করবো।‘ তিনি আরও যোগ করেন, যদি দল তাকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় এবং অন্য কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেন, তবে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে পারেন।

উল্লেখ্য যে, রাজনৈতিক অঙ্গনে ইশরাক হোসেনের এই বক্তব্য তার দলের ভেতরে এবং বাইরে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে তিনি এটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো অনেক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।

ইশরাক হোসেন তার বক্তব্যে দলের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভবিষ্যৎ এবং অংশগ্রহণ নিয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ফলে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগের পর থেকেই মূলত নির্বাচনের আবহাওয়া তৈরি হতে শুরু করেছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি গত নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা এবং সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন ইশরাক হোসেন। তার দাবি, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল যে হারে ভোট পেয়েছে, তা অবাস্তব এবং অস্বাভাবিক।
নিজের নির্বাচনী আসনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালে জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩০০০ ভোট পেয়েছিল এবং হাতপাখা প্রতীক পেয়েছিল ৬০০০ ভোট। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভোটের যে হিসাব দেখানো হচ্ছে, তা কল্পনার বাইরে।

নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইশরাক হোসেন সরকারকে একটি বিশেষ অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সরকারের উচিত পুরো ভোটার তালিকা পুনরায় যাচাই বা ভেরিফিকেশন করা। এই ভোটাররা আসলে কারা এবং ভোটার লিস্ট সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। সঠিক ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা ছাড়া একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রশাসক আব্দুস সালামের সাথে তার এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং নগরবাসীর নাগরিক সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করার বিষয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনের আগে সিটি কর্পোরেশনের সীমানা নির্ধারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়েও কথা বলেন তারা।

ইশরাক হোসেনের এই বক্তব্য থেকে দুটি বিষয় পরিষ্কার। প্রথমত, তিনি দলীয় শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়ে নিজের প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে চাইছেন। দ্বিতীয়ত, তিনি আগেভাগেই ভোটার তালিকা ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিপক্ষ এবং নির্বাচন কমিশনকে চাপের মুখে রাখার কৌশল গ্রহণ করেছেন। ডিএসসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি-র (এবং অন্যান্য জোটের) লড়াইয়ে ইশরাক হোসেন এখন পর্যন্ত অন্যতম হেভিওয়েট নাম।

ইশরাক হোসেনের এই অবস্থান পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। ভোটার তালিকা যাচাইয়ের যে দাবি তিনি তুলেছেন, তা সরকার বা নির্বাচন কমিশন কতটুকু আমলে নেয়—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এএন