জামায়াতে ইসলামী দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে সরকারের দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ‘গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’ এবং একই সঙ্গে ‘আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ’।
রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সেক্ষেত্রে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
পরওয়ার অভিযোগ করেন, “সরকার অত্যন্ত সুকৌশলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে একের পর এক প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে ‘দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে’ নিতে চাচ্ছে।” তিনি এই পদক্ষেপকে জনগণের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থার প্রতি সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হওয়ার পরিবর্তে নিয়োগনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য গভীর অশনিসংকেত। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার নামে সরকারের এই পদক্ষেপ আসলে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার অপচেষ্টা।”
পরওয়ার উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রথম ধাপ হিসেবে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে স্থানীয় সরকারে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির দায়িত্ব গ্রহণের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ৪২টি জেলা পরিষদে সরকারদলীয় পদধারীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার এই প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অবিলম্বে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে দ্রুত জেলা পরিষদে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে।
এএন