শিশির মনির

যারা গণভোট চেয়েছিল তারাই এখন মানতে চায় না

আবু তাহের প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬, ০২:১২ পিএম

যারা একসময় গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিল তারাই এখন সেই গণভোটের ফলাফল মানতে অনীহা দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। তিনি বলেন, জনগণের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে সেই মতামত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব দেখা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত “গণঅভ্যুত্থানের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা” শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শিশির মনির বলেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থার সময় বিভিন্ন দলের আলোচনায় যখন সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছিল, তখনই গণভোটের প্রস্তাব আসে। তিনি দাবি করেন, এই প্রস্তাবটি একটি বড় রাজনৈতিক দল থেকেই এসেছিল এবং পরে প্রায় সবাই এতে একমত হয়েছিল।

তিনি বলেন, “যখন কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল জনগণের কাছেই যাওয়া হবে। গণভোটের মাধ্যমে মানুষের মতামত নেওয়ার বিষয়েও তখন ঐকমত্য হয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, যারা এই প্রস্তাব দিয়েছিল তারাই সেই ফলাফল বাস্তবায়নে পিছিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, সংবিধানে গণভোটের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও এটি নিষিদ্ধ নয় এই যুক্তির ভিত্তিতেই তখন আলোচনা এগিয়েছিল।

সংবিধান নিয়ে চলমান বিতর্কের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতারা কখনো বলছেন সংবিধানের ভেতরে সমাধান আছে, আবার কখনো বলছেন নেই এ ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। 

বক্তব্যে তিনি রাষ্ট্রের সংস্কার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে কিছু মৌলিক বিষয় বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, যা সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিশির মনির বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত থাকলে স্বৈরাচারী প্রবণতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। না হলে ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকি থেকেই যাবে।”

গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের বড় একটি অংশ যদি কোনো বিষয়ে মতামত দেয়, তাহলে সেই মতামতকে সম্মান জানানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।

এএন