দল বাঁচাতে আ.লীগের শীর্ষ নেতাদের দেশে ফেরার আহ্বান তৃণমূলের

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

ক্ষমতা হারানোর পর চরম সংকটে পড়া আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে দ্রুত দেশে ফিরে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি।

তৃণমূল নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থান করে দল পরিচালনা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সামনে থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। অনেকেরই ধারণা ছিল রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছুটা হলেও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

ঢাকার বাইরে এক উপজেলা পর্যায়ের নেতা (ছদ্মনাম আরিফুল ইসলাম) বলেন, তারা আশা করেছিলেন পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হবে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা যাবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

তৃণমূলের দাবি, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আগের অবস্থান দেখে তারা ভেবেছিলেন রাজনৈতিক পরিবেশ কিছুটা সহনশীল হবে। তবে ক্ষমতার পালাবদলের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

দলের অভ্যন্তরে বর্তমানে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির। কিছু এলাকায় সীমিতভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডের চেষ্টা হলেও তা বাধার মুখে পড়েছে বলে জানা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থেকে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।

তৃণমূল নেতাদের মতে, পদধারী বা মামলার মুখোমুখি নেতারা এলাকায় ফিরে কার্যক্রম চালাতে পারছেন না। এতে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

এ অবস্থায় অনেকেই মনে করছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মাঠে না নামলে সংগঠনকে পুনর্গঠন করা কঠিন হবে। তাদের মতে, রাজধানীতে কার্যকর অবস্থান না থাকলে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দল পুনরায় সক্রিয় করা সম্ভব নয়।

তবে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম জানিয়েছেন, নেতৃত্ব দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতিতে দলের কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আইনি পরিবেশের কারণে আওয়ামী লীগের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ে নিষ্ক্রিয়তা মিলিয়ে দলটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

এএন