সংসদে কার্টুন শেয়ারকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির গ্রেপ্তারের অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাখ্যা দিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।
রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৬তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, হাসান ইনাম নামে এক ব্যক্তিকে একটি কার্টুন বা মিম শেয়ার করার কারণে সাইবার নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অতীতের মতোই মতপ্রকাশের কারণে দমন-পীড়ন চলছে এবং ২৫ ধারার অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, একটি মিম শেয়ার করাকে কীভাবে যৌন হয়রানির সঙ্গে যুক্ত করে মামলা দেওয়া হলো এটি প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিন্নমত দমনে আইন ব্যবহার করা হচ্ছে এবং জামিনও দেওয়া হচ্ছে না।
এ বক্তব্যের জবাবে ডেপুটি স্পিকার জানান, এটি “কোশ্চেন অব প্রিভিলেজ” হিসেবে আনতে হলে নির্ধারিত নিয়মে আগাম নোটিশ দিতে হবে।
পরে অধিবেশনে বক্তব্য দেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, কার্টুন বা অনলাইন কনটেন্ট নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে, সেটি ব্যক্তিগত বা এককভাবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। তিনি জানান, ফেসবুক ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফেক আইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ও দলের বিরুদ্ধে কুৎসা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ ও জিডি করা হয়েছে। এমনকি নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারকেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব কার্যক্রম বন্ধে বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি।
তিনি সংসদে বলেন, সম্প্রতি একটি গ্রেপ্তারের খবর তিনি গণমাধ্যমে দেখেছেন। তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। যদি কারও বিরুদ্ধে শুধু কার্টুন বা মতপ্রকাশের কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন তিনি।
চিফ হুইপের বক্তব্যের পর সংসদে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হয় এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাইবার আইনের প্রয়োগ নিয়ে ভিন্নমত উঠে আসে।
এএন