মা নাকি মেয়ে, কে হবেন বিএনপির কান্ডারী? 

ফয়েজুল্লাহ ফয়সাল  প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। দলটির শীর্ষ পর্যায়ে সম্ভাব্য নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে নতুন করে সামনে এসেছে দুই নাম- ডা. জুবাইদা রহমান এবং জাইমা রহমান। রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন একটাই মা না মেয়ে, শেষ পর্যন্ত কে হবেন বিএনপির ভবিষ্যৎ ‘কাণ্ডারী’?

ডা. জুবাইদা রহমান দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি রাজনৈতিকভাবে একটি পরিচিত পরিবারের অংশ। তার স্বামী তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতিতে সরাসরি সক্রিয় না থাকলেও দলীয় পরিমণ্ডলে তার নাম মাঝেমধ্যে আলোচনায় আসে।

অন্যদিকে জাইমা রহমান বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। লন্ডনভিত্তিক জীবনযাপন এবং পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও তার নাম ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্ব, প্রবাসী অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক রাজনৈতিক ভাবনার আলোচনায় তার নাম বারবার উঠে আসছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রশ্নটি এখন আর শুধু দলীয় অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির একটি বড় আলোচনার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, প্রবাসে থাকা নেতৃত্ব এবং নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ, এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে দলটির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে নানা ব্যাখ্যা তৈরি হচ্ছে।

তবে বাস্তবতা হলো, এখন পর্যন্ত ডা. জুবাইদা রহমান বা জাইমা রহমান কেউই সরাসরি রাজনৈতিক দায়িত্বে নেই। দলীয় কোনো পদ বা আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের ঘোষণা ছাড়াই তাদের নামকে ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা মূলত রাজনৈতিক সম্ভাবনা ও জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলে নেতৃত্বের বিষয়টি একক সিদ্ধান্ত বা পারিবারিক সমীকরণে নির্ধারিত হয় না। বরং রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলীয় কৌশল, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং জনসম্পৃক্ততার ওপর নির্ভর করে নেতৃত্ব বিকাশ ঘটে।

অন্যদিকে আরেকটি মত বলছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবারভিত্তিক নেতৃত্বের প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে জাইমা রহমানের নাম ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য আলোচনায় আসছে, তবে তা এখনো সময়ের পরীক্ষায় অনিশ্চিত।

সব মিলিয়ে ‘মা না মেয়ে কে হবেন বিএনপির কাণ্ডারী’- এই প্রশ্নের এখনো কোনো পরিষ্কার উত্তর নেই। এটি আপাতত রাজনৈতিক আলোচনার একটি প্রতীকী প্রশ্ন হিসেবেই রয়ে গেছে। বাস্তব রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এএন