ফয়জুল করীম

বিগত নির্বাচন ছিল আসন ভাগাভাগি

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেছেন, বিগত নির্বাচন জনগণের প্রকৃত ভোটের প্রতিফলন ছিল না; বরং এটি ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন ভাগাভাগি ও পূর্বচুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত একটি নির্বাচন।

শুক্রবারের বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

ফয়জুল করীম বলেন, সরকারি ও বিরোধী দল আগে থেকেই নিজেদের মধ্যে আসন বণ্টনের সমঝোতা করে সংসদে প্রবেশ করেছে। তার মতে, এ কারণেই বিরোধী দল সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেদের কার্যত বিরোধী ভূমিকা নেই বলেও মন্তব্য করে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশকে নির্বাচনে পরাজিত করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে সবকিছু এখন স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, গোপন রাজনীতির আর কোনো সুযোগ নেই।

শ্রমিক অধিকার প্রসঙ্গে তিনি দ্রুত ‘শ্রমিক কার্ড’ চালুর দাবি জানান। পাশাপাশি সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইত্যাদি কর্মসূচির মাধ্যমে সাময়িক জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছে।

সমাবেশে বিএনপি নিয়েও সমালোচনা করা হয়। বক্তাদের অভিযোগ, নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে চরমোনাই পীর মন্তব্য করেন, কেউ কেউ সংসদে কোরআনভিত্তিক শাসনের কথা বললেও বাস্তবে অবস্থান অস্পষ্ট। তার মতে, যদি শরিয়াহভিত্তিক আইন বাস্তবায়নের সুযোগ না থাকে, তবে সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে সংসদ ত্যাগ বা ওয়াকআউট করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, একদিকে ইসলামি শাসনের কথা বলা আর অন্যদিকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা-এই দ্বৈত অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়।

মুক্তিযুদ্ধ ও রাজাকার প্রসঙ্গে চলমান বিতর্ককে তিনি ‘অপ্রয়োজনীয় ও হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, সংসদে এসব বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি আহ্বান জানান, মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত বিষয়গুলো জাতির সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা উচিত।

শেষে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না; তাদের লক্ষ্য ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। প্রয়োজনে তারা ক্ষমতা ছাড়তে প্রস্তুত থাকলেও ইসলামি আদর্শ থেকে সরে যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। শ্রমজীবী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

এম জি