রাশেদ খাঁন

হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন হাসনাত

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন এমনটাই দাবি করেছেন। এই ইস্যুতে আন্দোলনের অন্য সমন্বয়কদের সঙ্গে হাসনাতের প্রায় হাতাহাতি ও সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন রাশেদ।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, নাহিদ ও আসিফ যখন ডিবি কার্যালয়ে মার খাচ্ছিলেন, তখন হাসনাত ও সারজিস সেখানে বসে জুস খাচ্ছিলেন। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা কার্যালয়ে কেন তাঁদের এই আপ্যায়ন করা হতো, তার আসল কারণ এই অডিওর মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

প্রকাশিত ওই অডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, আমি কখনোই কোনো ধরনের মুখোমুখি সংঘাতে জড়াতে চাইনি। আমার পুরো মনোযোগ ছিল কেবল কোটা সংস্কার আন্দোলনের ওপর এবং আমি সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকতে চেয়েছিলাম। এখন সমন্বয়কদের ভেতর থেকে কেউ যদি নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে (সরকার পতনের) সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, তবে তার দায় আমি কেন নেব? আমি আমার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, এ নিয়ে শুধু হাতাহাতি হওয়াটাই বাকি ছিল।

বিএনপির জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে রাশেদ খাঁন, আমি বিএনপির সংসদ সদস্যদের বলব, সংসদে সে (হাসনাত) যখন বেশি কথা বলবে, তখন এই অডিও ক্লিপটি বারবার বাজিয়ে শোনাবেন।

বিএনপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম মূলত আওয়ামী লীগের আদর্শ ধারণ করতেন। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে তাঁরা যে আন্দোলন করেছিলেন, তা ছিল মূলত নিজেদের অতীত অবস্থানকে আড়াল করার একটি কৌশল মাত্র।

অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টার সূত্রের কথা উল্লেখ করে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, শপথ নেওয়ার আগে গত ৭ আগস্ট রাত ২টার দিকে একজন উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন যে হাসনাত ও সারজিস জাতির সঙ্গে বড় ধরনের বেইমানি করেছে।

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট নিয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের লেখা বইটিরও কড়া সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ, বইটিতে কেবল আন্দোলনের ইতিবাচক বিষয়গুলোই তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু হাসনাত ও সারজিসের 'বিশ্বাসঘাতকতার গল্প' এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ ইতিহাস নিয়ে সতর্ক করে তিনি, আসিফ মাহমুদের বইয়ে গণঅভ্যুত্থানের শুধু একদিকের ভালো চিত্র এসেছে, তবে হাসনাত-সারজিসের বেইমানির ইতিহাস বাদ পড়েছে। আশা করছি, বইটির পরবর্তী সংস্করণে এই সত্যগুলো উঠে আসবে। আর তা যদি না হয়, তবে একাত্তরের মতো চব্বিশের ক্ষেত্রেও একটি বানোয়াট ইতিহাসই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্বল হবে।

রাশেদ খাঁনের এমন গুরুতর অভিযোগ ও অডিও ফাঁসের বিষয়ে এখন পর্যন্ত হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কারও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এএন