ইসলামি শরিয়তে হিজড়া বা খুনসা ব্যক্তিদের বিয়ে সম্পর্কিত স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। ফিকহবিদরা খুনসাকে মূলত দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন—‘খুনসা মুশকিলাহ’ এবং ‘খুনসা গাইরে মুশকিলাহ’।
ফিকহ গ্রন্থ ফতওয়ায়ে শামী (৬/৭২৯)-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী, খুনসা মুশকিলাহ সেই ব্যক্তি, যার লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায় না। অর্থাৎ, তিনি পুরুষ না নারী—তা স্পষ্ট নয়। শরিয়ত অনুসারে, এমন ব্যক্তিকে বিয়ে করা বৈধ নয়, কারণ বিবাহের মৌলিক শর্ত হলো—বর ও কনের লিঙ্গ স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকা।
অন্যদিকে, খুনসা গাইরে মুশকিলাহ হলেন সেই ব্যক্তি, যার মধ্যে কোনো একটি লিঙ্গের বৈশিষ্ট্য বেশি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
যেমন—
যদি তার দাড়ি ওঠে, পুরুষালি স্বপ্ন দেখে বা পুরুষের মতো পেশাব করে, তবে তাকে পুরুষ হিসেবে ধরা হবে।
আর যদি তার স্তন বিকশিত হয়, মাসিক হয় বা মেয়েলি স্বভাব দেখা যায়, তবে তাকে নারী হিসেবে গণ্য করা হবে।
ফিকহ গ্রন্থ ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া (২০/২০১)-এ বলা হয়েছে, এ ধরনের ব্যক্তিদের বিয়ে করা জায়েজ—তবে শর্ত হলো, যে লিঙ্গের বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে বেশি, সেই অনুযায়ীই বিবাহ সম্পন্ন করতে হবে।
শরিয়ত অনুযায়ী লিঙ্গ নির্ধারণে বিবেচিত হয় পেশাবের ধরন, দাড়ি ওঠা, বুকের গঠন, স্বপ্নদোষের প্রকৃতি ও যৌন আকর্ষণসহ আরও কয়েকটি আলামত।
এ প্রসঙ্গে ইসলামী পণ্ডিতরা সতর্ক করে বলেন, “বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই হিজড়া বা খুনসা ব্যক্তির বিয়ের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বরং বাস্তবতা, শরিয়তের বিধান ও চিকিৎসাগত দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”