ইসলাম ধর্মে পবিত্রতা (তাহারাত) ঈমান ও ইবাদতের মূলভিত্তি। রাসূলুল্লাহ বলেছেন, পবিত্রতা হলো ঈমানের অর্ধেক। (সহিহ মুসলিম)
অতএব, কোনো মুসলমানের জন্য নাপাক অবস্থায় ইবাদত করা বা পবিত্রতা ছাড়া ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া অনুচিত ও গুনাহের শামিল। নিচে নাপাক অবস্থার হুকুম, তার বর্ণনা ও করণীয় ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।
শরিয়তের দৃষ্টিতে নাপাক অবস্থা বা ‘হাদাসে আকবর ‘(বড় নাপাকী) হচ্ছে, যে অবস্থায় মানুষ নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, তাওয়াফ বা মসজিদে প্রবেশ করতে পারে না যতক্ষণ না সে গোসল (গুসল ফরজ) সম্পন্ন করে।
এই নাপাক অবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো, যৌন সম্পর্ক বা স্বপ্নদোষের পরের অবস্থা, ঋতুস্রাব (হায়েজ) ও নিফাস (সন্তান জন্মের পর রক্ত), শুক্রানু নির্গমন বা বীর্যপাতের ঘটনা এ ছাড়াও, ক্ষুদ্র নাপাকতা (হাদাসে আসগর) যেমন ওযু ভঙ্গের কারণও ইসলাম নির্ধারণ করেছে- যেমন ঘুম, গ্যাস, প্রস্রাব-পায়খানা ইত্যাদি।
নাপাক অবস্থায় কিছু কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা মাকরূহ। সেগুলো হলো, পবিত্রতা ছাড়া নামাজ পড়া অবৈধ ও বাতিল। আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নামাজের জন্য দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও...’ (সূরা আল-মায়িদা: ৬)
কুরআন স্পর্শ করার জন্য ওযু থাকা আবশ্যক। নাপাক অবস্থায় কুরআন হাতে নেওয়া বা তেলাওয়াত করা হারাম। তাকে স্পর্শ করে কেবল তারা, যারা পবিত্র। (সূরা আল-ওয়াকিআ: ৭৯)
হাদীস অনুযায়ী, নাপাক ব্যক্তি বা ঋতুবতী নারী মসজিদে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না পবিত্র হয়।
তাওয়াফ নামাজের মতোই পবিত্র অবস্থায় করতে হয়। তাই গোসল ছাড়া তাওয়াফ করা অগ্রহণযোগ্য।
নাপাক অবস্থায় করণীয়
যখন কেউ বুঝতে পারেন যে তিনি নাপাক অবস্থায় আছেন, তখন তার করণীয় হলো
অবিলম্বে গোসল ফরজ সম্পন্ন করা: গোসলের নিয়ত হবে নাপাকতা দূর করার উদ্দেশ্যে। প্রথমে হাত ধোয়া, তারপর শরীরের সব অঙ্গভঙ্গি ভালোভাবে পানিতে ভিজিয়ে নেয়া- এটি ফরজ।
পবিত্র পোশাক পরিধান করা: শরীরের সঙ্গে পোশাকও পবিত্র হতে হবে। নাপাক কাপড় পরে নামাজ আদায় করা জায়েয নয়।
পবিত্র স্থান ও খাদ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন: নাপাক অবস্থায় কুরআনের আয়াত লেখা স্থান, দোয়ার বই বা মসজিদের পাশ দিয়ে গেলে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।
ঋতুবতী নারীর জন্য বিশেষ বিধান: ঋতু চলাকালীন নারীদের নামাজ, রোযা, কুরআন তিলাওয়াত ও মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
পবিত্র হওয়ার পর ফরজ গোসল করে তারা পুনরায় ইবাদতে অংশ নিতে পারেন।
ইসলামের শিক্ষণীয় বার্তা
ইসলাম শারীরিক ও আত্মিক উভয় পবিত্রতাকেই গুরুত্ব দেয়। নাপাক অবস্থায় নামাজ, কুরআন বা মসজিদের কাছে যাওয়া শুধু নিষিদ্ধ নয়, বরং তা ইবাদতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।
পবিত্রতা ইসলাম ধর্মের রূপরেখার অন্যতম স্তম্ভ।
যে ব্যক্তি পবিত্র থাকে, সে আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়; আর যে নাপাক অবস্থায় ইবাদত করে, তার ইবাদত কবুল হয় না।
অতএব, মুসলমান হিসেবে আমাদের করণীয়, প্রতিনিয়ত নিজেকে পরিশুদ্ধ রাখা, পবিত্র পানিতে গোসল করা, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা এবং আল্লাহর স্মরণে পবিত্র মনে ও দেহে দাঁড়ানো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তওবা কারীদের ভালোবাসেন এবং যারা নিজেকে পরিশুদ্ধ রাখে তাদের ভালোবাসেন। (সূরা আল-বাকারা: ২২২)