যে সমস্ত বস্তু দ্বারা কুলুখ নেওয়া নাজায়েজ

ধর্ম ডেস্ক প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৫, ০৮:১৮ পিএম

ইসলাম ধর্মে পবিত্রতা অর্জন ঈমান ও ইবাদতের মৌলিক শর্ত। নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, রোযা বা হজ সব কিছুই পবিত্র অবস্থায় সম্পাদন করতে হয়। এই পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল, ওযু ও তায়াম্মুমের বিধান রয়েছে।

তবে অনেক সময় কিছু মানুষ অজ্ঞতাবশত এমন কিছু বস্তু বা তরল পদার্থ ব্যবহার করেন, যা দ্বারা কুলুখ বা গোসল গ্রহণ করা শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয বা অবৈধ।

কুলুখ বা গোসলের মূল শর্ত

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, গোসল বা কুলুখ গ্রহণের জন্য এমন পানি ব্যবহার করতে হবে, যা পরিষ্কার, পবিত্র ও তাযা (মুতলাক পানি)। যা কোনো অপবিত্র পদার্থ দ্বারা পরিবর্তিত নয় ও যা দ্বারা শরীরের প্রতিটি অঙ্গ ধোয়া সম্ভব।

এই মূলনীতি থেকে যে পানি বা তরল পদার্থ বিচ্যুত হয়, তা দিয়ে কুলুখ বা গোসল নাজায়েয।

যে সমস্ত বস্তু বা পানি দ্বারা কুলুখ নেওয়া নাজায়েয

নাপাক বা অপবিত্র পানি: যে পানিতে নাপাক বস্তু (যেমন প্রস্রাব, পায়খানা, রক্ত, মদ ইত্যাদি) মিশে রং, গন্ধ বা স্বাদ পরিবর্তিত হয়েছে সে পানি দ্বারা গোসল করা হারাম ও অগ্রহণযোগ্য।

কুরআনের ভাষায়, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র এবং তিনি পবিত্রতা ভালোবাসেন। (সহিহ মুসলিম)

ব্যবহৃত পানি (মুস্তামাল পানি): যে পানি আগে কারো ওযু বা গোসলে ব্যবহৃত হয়েছে এবং শরীর থেকে গড়িয়ে পড়েছে, তা পুনরায় ব্যবহার করা নাজায়েয। এ পানি আর মুতলাক থাকে না; শরিয়ত একে পবিত্র বলে গণ্য করে না।

পাক বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত পানি: যে পানিতে এমন কিছু মিশানো হয়েছে যা পানির মৌলিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে। যেমন, সাবান, লেবুর রস, ফুলের নির্যাস, চা বা দুধ। এর ফলে পানির মুতলাক গুণ চলে যায়, তাই গোসল বা কুলুখে ব্যবহার করা যায় না।

বস্তু যা পানি নয়: কিছু মানুষ ভুলবশত দুধ, গোলাপজল, শরবত বা ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করেন। এগুলো তাযা ও বিশুদ্ধ পানি নয়, তাই শরিয়তের দৃষ্টিতে পবিত্রতা অর্জন হয় না।

চুরি করা বা অন্যের অনুমতি ছাড়া নেওয়া পানি: অন্যের অনুমতি ব্যতীত পানি নিয়ে গোসল করা গুনাহ, যদিও তা পবিত্র পানি হয়। কারণ ইসলাম অন্যের সম্পত্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে শেখায়।

কুলুখ বা গোসলে ব্যবহারযোগ্য পানি: বৃষ্টি, নদী, পুকুর, কূপ, ঝরনা, বরফ বা নলকূপের পানি যদি নাপাক না হয়, তবে এগুলো দ্বারা গোসল সম্পূর্ণভাবে জায়েয।

পবিত্রতা শুধু শারীরিক নয়, আত্মিক পরিচ্ছন্নতাও এর সঙ্গে জড়িত। যে ব্যক্তি জেনে বা না জেনে অপবিত্র বস্তু দ্বারা কুলুখ নেয়, তার ইবাদত গ্রহণযোগ্য হয় না। 

অতএব, প্রত্যেক মুসলমানের উচিত শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী কুলুখ বা গোসলের পদ্ধতি ও বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা

ইসলাম পবিত্রতার ধর্ম। পবিত্রতা ছাড়া ইবাদতের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। তাই মুসলমানের কর্তব্য যে পানি পবিত্র ও মূলত বিশুদ্ধ, কেবল তাই দ্বারা কুলুখ বা গোসল করা। নাপাক, মিশ্রিত বা পরিবর্তিত পানি দ্বারা গোসল করা নাজায়েয, যা থেকে বিরত থাকা ফরজের অন্তর্ভুক্ত।

ইএইচ