পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায় নানা কারণে গোসল ফরজ হতে পারে। তবে রোজা অবস্থায় ফরজ গোসল করার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ নিয়ম ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, যাতে রোজা নষ্ট না হয়। মূলত সাধারণ সময়ের ফরজ গোসলের সঙ্গে রোজা অবস্থার গোসলের প্রধান পার্থক্য হলো কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার পদ্ধতিতে।
ইসলামি চিন্তাবিদ ও ফকিহরা জানান, রোজা অবস্থায় ফরজ গোসলের প্রধান তিনটি কাজ হলো- কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং সারা শরীর ভালোভাবে ধোয়া। তবে রোজাদার ব্যক্তিকে কুলি করার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। স্বাভাবিক সময়ে গড়গড়া করে কুলি করা সুন্নাত হলেও রোজা অবস্থায় গড়গড়া করা যাবে না। কারণ গড়গড়া করলে পানি পেটে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা রোজা নষ্ট করে দিতে পারে।
নাকের পানি দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। স্বাভাবিক অবস্থায় নাকের নরম হাড় পর্যন্ত পানি পৌঁছানো জরুরি হলেও রোজা অবস্থায় নাকের ভেতরে পানি দেওয়ার সময় খুব সাবধানে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে পানি যেন কোনোভাবেই মস্তিস্কে বা ভেতরে চলে না যায়। শুধুমাত্র নাকের অগ্রভাগ ভেজালেই গোসলের ফরজ আদায় হয়ে যাবে বলে আলেমগণ উল্লেখ করেন।
এছাড়া সারা শরীর এমনভাবে ধুতে হবে যেন দেহের একটি লোমকূপও শুকনো না থাকে। গোসলের শুরুতেই বিসমিল্লাহ বলা, দুই হাত কবজি পর্যন্ত ধোয়া এবং শরীরের কোথাও নাপাকি লেগে থাকলে তা পরিষ্কার করে নেওয়া উত্তম। এরপর নামাজের ওজুর মতো করে ওজু সম্পন্ন করে সারা শরীরে পানি ঢালতে হবে।
অনেক সময় সাহরির সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় অপবিত্র অবস্থায় রোজা শুরু করতে হয়। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় সাহরি খাওয়া ও রোজার নিয়ত করা বৈধ। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। তবে নামাজের কথা মাথায় রেখে দ্রুত গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করা জরুরি। বিনা ওজরে দীর্ঘক্ষণ অপবিত্র অবস্থায় থাকা সমীচীন নয় বলে ধর্মীয় নির্দেশনায় জানানো হয়।
জেএইচআর