কোরবানির মাংস সংরক্ষণে ইসলামের হুকুম কী?

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

কোরবানি ইসলামের একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যময় ইবাদত। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আত্মত্যাগের করুণ ও মহিমান্বিত ইতিহাস। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যেই মুসলমানরা কোরবানি আদায় করে থাকেন।

ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরতের পর প্রতি বছর কোরবানি করেছেন।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী মুকিম ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব, যদি তিনি ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।

নেসাব নির্ধারণ করা হয়েছে এভাবে-

স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি, রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি, অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের অন্যান্য সম্পদ।

কোরবানির মাংস সংরক্ষণে ইসলামের হুকুম

মদিনার প্রথম যুগে খাদ্যসংকট থাকায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবায়ে কেরামকে কোরবানির গোশত তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ করতে নিষেধ করেছিলেন। পরবর্তীতে অভাব কমে গেলে তিনি সেই বিধিনিষেধ তুলে নেন।

হাদিসে হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথমে তিন দিনের পর কোরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলেন। পরে তিনি বলেন, খাও, পাথেয় হিসেবে সঙ্গে নাও এবং সংরক্ষণ করে রাখ। (মুসলিম: ১৯৭২)

অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমি তোমাদের তিন দিনের পর কোরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলাম, যাতে সচ্ছল ব্যক্তিরা অসচ্ছলদের উদারভাবে দিতে পারে। এখন তোমরা যা ইচ্ছা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখতে পার। (তিরমিজি: ১৫১০)

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, আল্লাহর কাছে পৌঁছে না তাদের গোশত, না তাদের রক্ত; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর তাকবির ঘোষণা করো যে, তিনি তোমাদের হেদায়েত দান করেছেন। আর যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদের সুসংবাদ দিন। (সুরা হজ: ৩৭)

ইসলামে কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আত্মত্যাগ, আল্লাহভীতি ও মানবতার কল্যাণে উদারতা প্রদর্শন।

এম জি