কেয়ামতের দিন আল্লাহ যাদের সঙ্গে কথা বলবেন না

ধর্ম ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম

আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস ইসলামের অন্যতম মৌলিক আকিদা। কেয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে সমগ্র মানবজাতিকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে হবে। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, সেদিনের আতঙ্কে মানুষ নিজের নিকটাত্মীয়দের থেকেও দূরে সরে যাবে। এমন কঠিন সময়ে সবাই মহান আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা প্রত্যাশা করবে। তবে হাদিসে এমন কিছু মানুষের কথা এসেছে, যারা সেই দিন আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হবে।

হজরত আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত একাধিক সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না। বরং তাদের জন্য অপেক্ষা করবে কঠিন শাস্তি।

টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী

হাদিসে এসেছে, অহংকারবশত টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারীর প্রতি আল্লাহর অসন্তুষ্টি রয়েছে। রাসুল (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, কাপড়ের যে অংশ টাখনুর নিচে থাকবে, তা জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হবে।

ইসলামি আলোচক শায়েখ আহমাদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, লুঙ্গি, প্যান্ট বা পাজামার মতো নিচের দিকে ঝুলে থাকা পোশাক টাখনুর নিচে নামিয়ে পরা এ সতর্কবার্তার অন্তর্ভুক্ত।

মিথ্যা কসম করে ব্যবসা করা ব্যক্তি

ব্যবসায় লাভের আশায় অনেকেই পণ্যের গুণগত মান নিয়ে মিথ্যা শপথ করেন। ইসলামে এ ধরনের প্রতারণাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, মিথ্যা কসম সাময়িকভাবে বিক্রি বাড়াতে পারে, কিন্তু তা ব্যবসার বরকত নষ্ট করে দেয়।

এ ধরনের ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে সতর্ক করে আলেমরা বলেন, যারা আল্লাহর নাম ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণা করে, তারা কেয়ামতের দিন আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে।

দান করে অপমানকারী

ইসলামে দান-সদকার মূল ভিত্তি হলো আন্তরিকতা ও বিনয়। কিন্তু কেউ যদি সাহায্য করার পর সেই দান নিয়ে খোঁটা দেয় বা অপমান করে, তাহলে তার সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে নিজেদের দানকে বিনষ্ট করো না। এ ধরনের আচরণ মানবিকতা ও ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।

‘আল্লাহ কথা বলবেন না’- এর অর্থ কী?

ইসলামি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর অর্থ হলো ওই ব্যক্তিরা আল্লাহর বিশেষ রহমত, সম্মান ও ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হবে। তারা আখিরাতে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে এবং গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার সুযোগও হারাবে—যদি না দুনিয়াতে আন্তরিক তওবা করে।

এএন