ঋণগ্রস্তদের জন্য কোরবানির হুকুম কী?

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০২:০৮ পিএম

কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত, যা আত্মত্যাগ, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা এবং আনুগত্যের অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এর ঐতিহাসিক সূচনা মানবজাতির প্রথম যুগ থেকেই, হজরত আদম (আ.)এর দুই সন্তান হাবিল ও কাবিলের ঘটনার মাধ্যমে এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পরবর্তীতে হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) এর মহান আত্মসমর্পণের ঘটনা কিয়ামত পর্যন্ত মুমিনদের জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে।

ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জাকাত ও কোরবানির ক্ষেত্রে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া শর্ত। তবে জাকাতের ক্ষেত্রে যেমন সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর থাকা আবশ্যক, কোরবানির ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য নয়। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়-এক বছর পূর্ণ হয়েছে কি না, তা এখানে বিবেচ্য নয়।

তবে কেউ যদি কোরবানির দিনগুলোতে সাময়িকভাবে ঋণগ্রস্ত থাকেন এবং সেই ঋণ পরিশোধ করার পর তার কাছে নিসাব পরিমাণ অতিরিক্ত সম্পদ না থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। আর যদি ঋণ পরিশোধের পরও নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে, তাহলে কোরবানি আদায় করা তার জন্য আবশ্যক থাকবে।

কোরবানির নিসাব নির্ধারণে শুধু নগদ অর্থ নয়, বরং আরও কিছু সম্পদ হিসাবযোগ্য ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনা-রুপা, অলংকার, নগদ টাকা-পয়সা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, অতিরিক্ত বাড়ি বা যানবাহন, ব্যবসার পণ্য এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনের বাইরে থাকা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।

এই বিধানসমূহ মূলত কোরবানির ইবাদতকে সঠিকভাবে পালন করার নির্দেশনা দেয় এবং মুমিনকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের শিক্ষা প্রদান করে।

এম জি