পবিত্র ঈদুল আজহার আর বেশি দিন বাকি নেই। যারা সামর্থ্যবান, তাদের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে অনেক মুসলমানই একা একটি পুরো পশু কোরবানি দেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য রাখেন না। ফলে তাঁরা যৌথভাবে বা ভাগে কোরবানি দিয়ে থাকেন। অনেক সময় পরিবারের সদস্য বা প্রতিবেশীরা মিলে একটি পশু কেনেন। কিন্তু ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, সবার সঙ্গে ভাগে কোরবানি দেওয়া যায় না। ভুল মানুষের সঙ্গে শরিক হলে কোরবানি কবুল নাও হতে পারে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দিয়ে কেবল একজনই কোরবানি দিতে পারবেন। এগুলো একাধিক ব্যক্তি মিলে ভাগে কোরবানি করলে তা সহিহ হবে না।
তবে উট, গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন ব্যক্তি শরিক হতে পারবেন। সাতের অধিক শরিক হলে কারও কোরবানিই শুদ্ধ হবে না। তবে সাতের কম যেকোনো সংখ্যা, যেমন- দুই, তিন, চার, পাঁচ বা ছয় ভাগে কোরবানি করা সম্পূর্ণ জায়েজ।
যৌথভাবে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অংশীদার বা শরিক নির্বাচনের বিষয়ে ইসলামে সুনির্দিষ্ট ও কড়া নির্দেশনা রয়েছে।
শুধু গোশত খাওয়ার নিয়ত থাকলে: কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। ভাগের কোনো অংশীদারের নিয়ত যদি আল্লাহর হুকুম পালন না হয়ে কেবল ‘গোশত খাওয়া’ বা লোকদেখানো হয়, তবে তাঁর কোরবানি শুদ্ধ হবে না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ওই শরিকের কারণে বাকি অংশীদারদের কোরবানিও বাতিল হয়ে যাবে।
উপার্জন হালাল না হলে: শরিকে কোরবানি দেওয়ার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কোনো অংশীদারের উপার্জন হারাম (যেমন- সুদ, ঘুষ বা অবৈধ ব্যবসা) না হয়। হারাম উপার্জনের টাকা দিয়ে কোরবানির শরিক হলে পুরো পশুর কোরবানিই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
তাই ভাগে কোরবানি দেওয়ার আগে অংশীজনদের নিয়ত এবং উপার্জনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত ও সতর্ক হওয়া জরুরি।
অনেকে মনে করেন, যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তাঁরা কোরবানির পশুর ভাগে অংশ নিতে পারবেন না। এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। সামর্থ্য না থাকার পরও কেউ যদি সওয়াবের আশায় কোরবানি দেন, তবে তিনি আরও বেশি সওয়াবের অধিকারী হবেন।
এ ছাড়া, নিজের পক্ষ থেকে কোরবানি করা ওয়াজিব হলেও নাবালক সন্তানের পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়া পিতার ওপর ওয়াজিব নয়। তবে পিতা যদি নিজের অর্থ দিয়ে নাবালক সন্তানের নামে কোরবানি দেন, তবে তা নফল কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে এবং সওয়াব পাওয়া যাবে। একইভাবে প্রিয়জন বা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও কোরবানি দেওয়া জায়েজ।
জেএইচআর