কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়, বরং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও তাকওয়ার বাস্তব প্রকাশ। হাদিসে এসেছে—কোরবানির পশুর প্রথম রক্তবিন্দু মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। তাই এই ইবাদত যথাযথ নিয়মে আদায় করা অত্যন্ত জরুরি।
কোরবানি কবুল হওয়ার জন্য পশু জবাই অবশ্যই শরিয়তসম্মত হতে হবে। পাশাপাশি পশুর প্রতি দয়া, মানবিক আচরণ এবং সুন্নতের অনুসরণ করাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। নিচে কোরবানির পশু জবাইয়ের মৌলিক শর্ত ও সুন্নত পদ্ধতি তুলে ধরা হলো:
কোরবানির পশু জবাইয়ের দোয়া
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযি ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা, আলা মিল্লাতি ইবরাহিমা হানিফাঁও ওয়া মা আনা মিনাল মুশরিকিন। ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়াইয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রব্বিল আলামিন। লা শারিকা লাহু ওয়া বিযালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমিন। বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাক।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আমার মুখমণ্ডল সেই মহান সত্তার দিকে ফিরালাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন- ইবরাহিম (আ.)-এর মিল্লাতের ওপর একনিষ্ঠভাবে। আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয়ই আমার নামাজ, কোরবানি, জীবন ও মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক। তাঁর কোনো শরিক নেই। আমাকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ! এই কোরবানি তোমার পক্ষ থেকে এবং তোমারই উদ্দেশ্যে।
পশু জবাইয়ের মৌলিক শর্ত
সুন্নত পদ্ধতিতে পশু জবাইয়ের নিয়ম
ইসলাম কোরবানির মাধ্যমে শুধু ত্যাগের শিক্ষা দেয় না, বরং প্রাণীর প্রতিও সহানুভূতি ও মানবিক আচরণের নির্দেশ দেয়। তাই কোরবানির সময় কোনোভাবেই পশুকে অযথা কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিকভাবে জবাই করলে ইবাদত যেমন সুন্দরভাবে আদায় হয়, তেমনি আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জিত হয়।
জেএইচআর