ইসলামে নারী-পুরুষের চরিত্র পবিত্র ও নিষ্কলুষ রাখতে বিয়েকে একমাত্র বৈধ ও হালাল সম্পর্কের মাধ্যম হিসেবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সমাজে প্রচলিত ‘হিল্লা বিয়ে’ নামে পরিচিত একটি প্রথাকে ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ ও অভিশপ্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
‘হিল্লা’ শব্দটি মূলত তাহলিল থেকে এসেছে, যা সমাজে এমন এক ধরনের বিয়েকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়-যেখানে তিন তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে পুনরায় আগের স্বামীর জন্য হালাল করার উদ্দেশ্যে অন্যের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে দেওয়া হয়। ইসলামী বর্ণনায় এ ধরনের উদ্দেশ্যভিত্তিক বিয়েকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কোনো স্বামী স্ত্রীকে এক বা দুই তালাক দিলে পুনরায় বৈধভাবে সংসার করার সুযোগ থাকে। তবে তিন তালাকের পর নির্দিষ্ট শর্ত ছাড়া পুনরায় একসঙ্গে ফেরা যায় না। এ বিষয়ে কোরআনের সুরা বাকারা (আয়াত ২৩০) এ সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
আয়াতে বলা হয়েছে, তিন তালাকের পর স্ত্রী অন্য স্বামীর সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যদি সেই সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে শেষ হয়, তবেই প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় সংসার করা বৈধ হতে পারে।
ইসলামি ব্যাখ্যায় বলা হয়, তালাক একটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়া প্রক্রিয়া, যা সম্পর্ক রক্ষার সুযোগ রেখে নির্ধারিত সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সমাজে অনেক সময় এই বিধানকে ভুলভাবে ব্যবহার করে আগে থেকেই তিন তালাক দিয়ে পরে হিল্লা বিয়ের মাধ্যমে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা হয়, যা শরিয়তে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
হাদিসে এসেছে, হিল্লা উদ্দেশ্যে বিয়ে করা ব্যক্তি ও যার জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়-উভয়কেই অভিশপ্ত বলা হয়েছে (ইবনে মাজাহ ৩/১৯৩৬)।
ইসলামি আলেমদের মতে, আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন করে কোনো কৌশল অবলম্বন করা যাবে না। দাম্পত্য জীবনে সততা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখাই প্রকৃত ঈমানের শিক্ষা।
এম জি