মেসি-রোনালদো আবারও বিশ্বকাপে

নেইমার ছিটকে গেলেন ইনজুরিতে:  তিন তারকার গল্পে সরগরম ফুটবল দুনিয়া

নিজস্ব ক্রীড়া প্রতিবেদক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৫, ১০:৫০ এএম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ (ইংরেজি: 2026 FIFA WorId Cup) বা ফিফা বিশ্বকাপ  ২৬, আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা ফিফা বিশ্বকাপের ২৩ তম আসর অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টটি ১১ই জুন থেকে ১৯  জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এটি উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশের ১৬টি  শহর যৌথভাবে আয়োজন করবে, কানাডা মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপের আর মাত্র ১০ মাস  বাকি। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে আলোচনা। ফুটবলপ্রেমীরা তাকিয়ে আছেন সেই তিন মহাতারকার দিকে—লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়র। আসন্ন বিশ্বকাপ থেকে এ তিনজনের মধ্যে ইনজুরি ও ফিটনেস সমস্যার কারণে একমাত্র নেইমারই নিশ্চিতভাবে বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে মেসি ও রোনালদো এখনো মাঠে সক্রিয়, এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের জাতীয় দলের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মেসি বনাম রোনালদো: কে সেরা?

দুই দশক ধরে ফুটবল বিশ্বে রাজত্ব করেছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কে সেরা—এ বিতর্ক আজও থেমে নেই। পরিসংখ্যান বলছে, দু’জনের গোল সংখ্যা এখনো কাছাকাছি। মেসি ক্লাব ও দেশের হয়ে মিলিয়ে ৮৩০টির বেশি গোল করেছেন, অন্যদিকে রোনালদো এরই মধ্যে ৮৫০-এর ঘর পার করেছেন। তবে মেসি যেখানে গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্টেও এগিয়ে, রোনালদো তার ক্যারিয়ারে সর্বাধিক আন্তর্জাতিক গোলের রেকর্ড ধরে রেখেছেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন বহু প্রতীক্ষিত ট্রফি (২০২২ কাতার বিশ্বকাপ), যেখানে রোনালদোর পর্তুগাল কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল। মেসির এই বিশ্বকাপ জয় তাকে অনেকের চোখে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স

মেসি বর্তমানে মেজর লিগ সকার (এমএলএস)-এর ইন্টার মিয়ামিতে খেলছেন। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি শুধু নিজের দলকে বদলে দেননি, পুরো লীগকেই জনপ্রিয় করে তুলেছেন। সর্বশেষ মৌসুমে তিনি দলের হয়ে ৩০টির বেশি গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অবদান রেখেছেন।

অন্যদিকে রোনালদো সৌদি আরবের আল-নাসরে খেলছেন এবং এখনো দুর্দান্ত ফিটনেস ধরে রেখেছেন। তিনি লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের মধ্যে রয়েছেন। তার শারীরিক সক্ষমতা ও অনুশীলনের প্রতি নিষ্ঠা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য উদাহরণ হয়ে আছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচ

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, মেসি ও রোনালদোর জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তাদের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। মেসি তখন ৩৯ এবং রোনালদো ৪১ বছর বয়সী হবেন। অনেকেই ভাবছেন, তারা কি সেই বয়সেও সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারবেন?
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন,
"যদি মেসি ফিট থাকে এবং খেলতে চায়, আমরা তাকে অবশ্যই দলে রাখব। সে এখনো দলের জন্য অপরিহার্য।"

অন্যদিকে পর্তুগালের কোচ মার্টিনেজও জানিয়েছেন যে রোনালদো এখনো তার পরিকল্পনায় আছেন। "রোনালদো প্রতিদিন প্রমাণ করছে সে কতটা পেশাদার। তার অভিজ্ঞতা আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য সম্পদ।"

নেইমারের দুঃস্বপ্ন

ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র এখন ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে। গত বছর হাঁটুর মারাত্মক ইনজুরির পর থেকে তিনি নিয়মিত খেলতে পারছেন না। চিকিৎসকরা বলছেন, তার মাঠে ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে তাকে দেখা না-ও যেতে পারে।

ব্রাজিলিয়ান মিডিয়ার ভাষ্যমতে, "নেইমারের ক্যারিয়ারে বারবার ইনজুরি তার স্বপ্নগুলোকে ভেঙে দিয়েছে। তিনি যদি ফিরতেও পারেন, আগের মতো ছন্দে ফেরা কঠিন হবে।"

ফুটবলপ্রেমীরা হতাশ, কারণ মেসি-রোনালদোর সাথে নেইমারের লড়াই দেখা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভক্ত লিখেছেন, “নেইমার ছাড়া বিশ্বকাপ অসম্পূর্ণ মনে হবে।”

পুরস্কার ও অর্জন

মেসি ও রোনালদো দু’জনই অগণিত ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতেছেন। মেসির ঝুলিতে রয়েছে রেকর্ড ৮টি ব্যালন ডি’অর, যেখানে রোনালদোর রয়েছে ৫টি। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুটও দু’জনের হাতে একাধিকবার উঠেছে। ক্লাব ফুটবলে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন বহুবার।

নেইমারও পিএসজি ও বার্সেলোনার হয়ে অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন। তবে বিশ্বকাপ ট্রফি এখনো তার হাতে ওঠেনি, যা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা।

ভক্তদের প্রতিক্রিয়া

সারা বিশ্বের ভক্তরা এখনো এই তিন তারকার প্রতিটি ম্যাচ অনুসরণ করেন। মেসি ও রোনালদোর একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনো মিডিয়ার শিরোনাম হয়। ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, "মেসি-রোনালদোর যুগ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর সময়। তারা দু’জন অবসর নিলে ফুটবল বিশ্ব অনেকটা ফাঁকা হয়ে যাবে।"

উপসংহার

২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের এক বিশেষ আসর। মেসি ও রোনালদোকে হয়তো শেষবারের মতো দেখা যাবে এই মঞ্চে, আর নেইমারের অনুপস্থিতি থাকবে বড় শূন্যতা। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি এক আবেগঘন মুহূর্ত—কারণ তিন মহাতারকার গল্পই ফুটবলের ইতিহাসে এক অমলিন অধ্যায়।

জেএইচআর