সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২৫, ১১:১১ পিএম

জয়ের জন্য শেষ ১২ বলে দরকার ছিল মাত্র ১২ রান, হাতে ৬ উইকেট। ক্রিজে তখন দলনেতা নিগার সুলতানা জ্যোতি ফিফটির দেখা পেয়েছেন, আর সঙ্গ দিচ্ছিলেন স্বর্ণা আক্তার। কিন্তু শেষ মুহূর্তের ধসেই হাতছাড়া হলো নিশ্চিত জয়ের ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৭ রানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০২ রান করে শ্রীলঙ্কা নারী দল। জবাবে ১৯৫ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। জয় পেয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখে স্বাগতিকরা।

এই জয়ের ফলে ৬ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয় নম্বরে উঠে এসেছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে ২ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ। টেবিলের শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া, এরপর যথাক্রমে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

২০৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ছিল হতাশাজনক। ওপেনার রুবিয়া হায়দার ফেরেন শূন্য রানে, আরেক ওপেনার ফারজানা আক্তার পিংকি করেন ৭ রান। শবানা মোস্তারিও ফেরেন ৮ রান করে।

তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলের হাল ধরেন শারমিন আক্তার ও নিগার সুলতানা জ্যোতি। দুজনের ৮২ রানের দুর্দান্ত জুটিতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। শারমিন রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ার আগে ১০২ বলে ৬২ রান করেন, যাতে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা।

এরপর জ্যোতি ও স্বর্ণা আক্তার মিলে আরেকটি ৫০ রানের জুটি গড়েন। তবে স্বর্ণা আউট হওয়ার পরেই শুরু হয় উইকেট পতনের ধস। ২৭ বলে ১৯ রান করেন স্বর্ণা।

শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১২ রান, হাতে ছিল ৬ উইকেট। কিন্তু একের পর এক উইকেট হারিয়ে চূড়ান্ত বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ ওভারে আউট হন দলনেতা নিগার সুলতানা জ্যোতি—যিনি ফিফটি পূর্ণ করার পর ৭৭ রানে থামেন। তার ৯৮ বলের ইনিংসে ছিল ছয়টি চারের মার।

শেষের দিকে রিতুমনি (৭), রাবেয়া খান (১), নাহিদা আক্তার (০) ও মারুফা আক্তার (০) কোনো অবদান রাখতে পারেননি। মাঠে নামলেও ব্যাট করার সুযোগ পাননি শারমিন আক্তার, তিনি অপরাজিত থাকেন ৬৪ রানে।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বাধিক চারটি উইকেট নেন অধিনায়ক চামারি আতাপাতু। দুইটি করে উইকেট ভাগ করে নেন সুগন্ধা কুমারি ও ইনোকা রানাবিরা।

শেষ পর্যন্ত ৭ রানের হার বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। শেষ মুহূর্তের এই পরাজয় আবারও মনে করিয়ে দিল—বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের লড়াই যতই প্রাণবন্ত হোক না কেন, ভাগ্য যেন বারবার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।