হয়তো আর মাত্র কয়েকটা দিন: চেলসির সাবেক ফুটবলার মুসোন্ডার বিদায়ী বার্তায় কাঁদছে ফুটবল বিশ্ব

ক্রীড়া প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

মাঠের লড়াইয়ে হার-জিত থাকেই, কিন্তু জীবনের লড়াইয়ে যখন চিকিৎসকরা সময়সীমা বেঁধে দেন, তখন শব্দরা স্তব্ধ হয়ে যায়। চেলসির সাবেক ফুটবলার লামিশা মুসোন্ডা এখন জীবনের সেই কঠিনতম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। মরণব্যাধির সঙ্গে দীর্ঘ দুই বছরের অসম লড়াই শেষে তিনি জানিয়েছেন, তার হাতে হয়তো আর মাত্র কয়েকটা দিন সময় আছে।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বিবৃতিতে মুসোন্ডা তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং জীবনের শেষ ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং ফুটবল অনুরাগীদের মাঝে শোকের ছায়া নামিয়ে আনে।

২০২০ সালে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া মুসোন্ডা গত দুই বছর ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন। কেন তিনি আড়ালে চলে গিয়েছিলেন, তার উত্তর মিলল এই বার্তায়। তিনি জানান, এমন এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে তিনি আক্রান্ত যার কোনো চিকিৎসা বিজ্ঞানের জানা নেই।

মুসোন্ডা লিখেছেন যে, আমি বুঝতে পারছি যে হয়তো আমার হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন আছে। এই কঠোর বাস্তবতা আমাকে এটা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে আমার পাশে কত মানুষ ছিল। জীবন কঠিন, কিন্তু জীবন সুন্দর। গত দুই বছর আমার জন্য বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং ছিল।

লামিশা মুসোন্ডার ফুটবল যাত্রা শুরু হয়েছিল বেলজিয়ামের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আন্দারলেখটের হাত ধরে। সেখান থেকেই তার প্রতিভা নজর কাড়ে ইংলিশ জায়ান্ট চেলসির। ব্লুজদের একাডেমি থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার চেলসির হয়ে বড় স্বপ্ন দেখতেন। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তিনি স্পেনের নিচের সারির ক্লাব লাগোস্তেরা ও পালামোসে খেলেছেন। ২০১৮ সালে তিনি কঙ্গোলিজ ক্লাব টিপি মাজেম্বেতে যোগ দেন এবং সেখানেই ২০২০ সালে বুট জোড়া তুলে রাখেন।

মুসোন্ডা পরিবারের ফুটবলের রক্ত মিশে আছে। তার ভাই চার্লি মুসোন্ডাও চেলসির হয়ে খেলেছেন এবং পরে লা লিগায় রিয়াল বেতিসের হয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন। দুই ভাইয়ের ফুটবল নৈপুণ্য এক সময় ইউরোপীয় ফুটবলে বেশ চর্চিত ছিল।

অসুস্থতা তার শরীরকে গ্রাস করলেও মনোবল ভাঙতে পারেনি। মুসোন্ডা তার বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি হাল ছাড়ছেন না। তিনি লিখেছেন যে, আমার স্বাস্থ্যের অবস্থা এখন সংকটজনক। আমি এখন কেবল বেঁচে থাকার জন্য লড়ছি। আপনাদের সাহায্য ও প্রার্থনা আমার জন্য অনেক বড় পাওনা। আমার পরিবার ও আমি একসাথে লড়াই করছি এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি লড়াই চালিয়ে যাব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দীর্ঘ বিরতির কারণ হিসেবে তিনি তার এই শারীরিক ও মানসিক লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন যে, যারা তাকে বিভিন্ন সময়ে সাহায্য করেছেন, তাদের সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ হয়তো তিনি আর পাবেন না।

মুসোন্ডার এই বার্তার পর চেলসি, আন্দারলেখটসহ তার সাবেক ক্লাবগুলো এবং সতীর্থরা সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আরোগ্য কামনায় পোস্ট করছেন। অনেকের মতে, মুসোন্ডার এই বার্তা কেবল একটি বিদায়পত্র নয়, বরং এটি জীবনের ক্ষণস্থায়ীত্বের এক বড় শিক্ষা। লামিশা মুসোন্ডার জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, গ্যালারির গর্জন আর ট্রফির উজ্জ্বলতা ছাপিয়েও জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য হলো মানবিকতা এবং ভালোবাসা। ফুটবল বিশ্ব এখন কেবল একটি অলৌকিক ঘটনার অপেক্ষায়, যাতে তাদের এই প্রিয় মুখটি আরও কিছুদিন পৃথিবীর আলো দেখে যেতে পারেন।

এই প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো হলো লামিশা মুসোন্ডা যিনি চেলসির একজন সাবেক ফুটবলার। তার বর্তমান অবস্থা বেশ সংকটজনক কারণ তিনি দুরারোগ্য মরণব্যাধিতে আক্রান্ত এবং চিকিৎসকরা তাকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছেন। তার ক্যারিয়ারে তিনি চেলসি, আন্দারলেখট, টিপি মাজেম্বে এবং স্পেনের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। তার বার্তার মূল কথা হলো জীবন সুন্দর কিন্তু কঠিন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

ইএইচ