পাকিস্তান অধিনায়ক

বাংলাদেশিরা আমাদের ভাই, তাদের না থাকাটা দুঃখজনক

ক্রীড়া প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বা কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপের ডামাডোল শুরু হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার মাটিতে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট কূটনীতি। টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া এবং তার প্রতিবাদে পাকিস্তানের ‘ভারত-ম্যাচ’ বয়কটের ঘোষণা বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

আজ কলম্বোয় অনুষ্ঠিত অধিনায়কদের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এই জটিল ইস্যুতে মুখ খুললেন পাকিস্তান দলের অধিনায়ক আগা সালমান। বাংলাদেশকে ছাড়াই এই বিশ্বকাপের আয়োজনকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। পাশাপাশি সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে ভারত-ম্যাচ না খেলার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন পাকিস্তান কাপ্তান।

সংবাদ সম্মেলনে আগা সালমান বাংলাদেশ দলের অনুপস্থিতি নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি কর্তৃক বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি মেনে নিতে পারছেন না। সালমান বলেন, বাংলাদেশিরা আমাদের ভাইয়ের মতো। পাকিস্তানের ক্রিকেটের প্রতি তাদের যে অকৃত্রিম সমর্থন, তার জন্য আমরা সবসময় কৃতজ্ঞ।

এবারের বিশ্বকাপে তারা খেলছে না, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের অভাব প্রতিটি ক্রিকেটার এবং সমর্থক অনুভব করবেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান দল ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আগা সালমান পেশাদারিত্বের সাথে উত্তর দেন।

তিনি জানান, ক্রিকেটার হিসেবে মাঠের খেলাই তাদের কাজ, তবে জাতীয় স্বার্থে সরকারের নির্দেশনা পালন করা তাদের পবিত্র দায়িত্ব। সালমান বলেন, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এটি সম্পূর্ণ আমাদের সরকারের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। তারা আমাদের যা বলবে, আমরা ঠিক তা-ই করব।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই কোটি কোটি দর্শকের উন্মাদনা। এই ম্যাচ না হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তরা যে হতাশ হবেন, তা স্বীকার করে নিয়েছেন সালমান। তিনি বলেন, ভক্তরা হয়তো হতাশ হবেন, কিন্তু পরিস্থিতি এখন বিশেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে আমাদের গ্রুপের আরও তিনটি ম্যাচ আছে। আমরা সেই ম্যাচগুলো নিয়ে রোমাঞ্চিত এবং সেখানেই আমাদের পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের একটি তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় পাকিস্তান অধিনায়ককে। যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হতে হয়, তবে পাকিস্তান কী করবে, এর উত্তরে সালমান বলেন, যদি নকআউট পর্ব বা শেষ আটে বা ফাইনালে তাদের বিপক্ষে খেলার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে আমরা আবার আমাদের সরকারের কাছে নির্দেশনা চাইব। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

টি-টোয়েন্টি বা কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপ ২০২৬ এর এই অচলাবস্থার সূত্রপাত হয়েছিল ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ থেকে। আইপিএল বা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে হুমকি দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার ভারতের মাটিতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে যুক্ত করলে পাকিস্তান এই কঠোর প্রতিবাদের পথ বেছে নেয়।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও আগা সালমান জানালেন, মাঠের লড়াইয়ের জন্য পাকিস্তান দল প্রস্তুত। কলম্বোর কন্ডিশন বা আবহাওয়া তাদের চেনা এবং বাকি ম্যাচগুলোতে জয়লাভ করে তারা শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে চান। তবে ক্রিকেট বিশ্বের বড় একটা অংশ মনে করছে, পাকিস্তান বনাম ভারত ম্যাচ না হলে টুর্নামেন্টের জৌলুস অনেকটাই ম্লান হয়ে যাবে।

আগা সালমানের এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ক্রিকেটের মাঠ এখন আর কেবল ব্যাট-বলের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন আঞ্চলিক ভ্রাতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সম্মানের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতি পাকিস্তানের এই সংহতি আগামীতে আইসিসি এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল বা এসিসির কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

জেএইচআর