লামিনে ইয়ামালের নামের পেছনে লুকিয়ে আছে যে গল্প

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ১১:৫০ পিএম

বিশ্ব ফুটবলের নতুন বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই স্পেন জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা এই তরুণ ফুটবলারের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানবিকতা, কৃতজ্ঞতা ও সংগ্রামের এক অনন্য গল্প।

স্প্যানিশ রীতি অনুযায়ী তার পূর্ণ নাম লামিনে ইয়ামাল নাসরাউই এবানা। বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কো থেকে এবং মা শেইলা এবানা নিরক্ষীয় গিনির বংশোদ্ভূত। আরবি ভাষায় ‘লামিনে’ শব্দের অর্থ বিশ্বস্ত বা নির্ভরযোগ্য, আর ‘ইয়ামাল’ অর্থ সৌন্দর্য। তবে এই নামের পেছনে কেবল ভাষাগত অর্থ নয়, রয়েছে বাস্তব জীবনের আবেগঘন ইতিহাস।

স্পেনের বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়ামালের জন্মের সময় তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। তখন তার বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন পরিবারের ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি, যাদের নাম ছিল লামিনে ও ইয়ামাল। তাদের সহযোগিতার প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই সন্তানের নাম রাখা হয় এই দুই মানুষের নামে।

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই শৈশব কেটেছে ইয়ামালের। অল্প বয়সেই তিনি বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে ভর্তি হন। সেখান থেকেই প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে দ্রুত জায়গা করে নেন মূল দলে। এরপর স্পেন জাতীয় দলের জার্সিতেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে আসেন।

সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেও নিজের অতীতকে ভুলে যাননি এই তরুণ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, তার বাবা-মা অসংখ্য কষ্ট সহ্য করে তাকে বড় করেছেন। সেই কঠিন সময়গুলোই তাকে জীবনের প্রকৃত মূল্য বুঝতে শিখিয়েছে এবং প্রতিটি অর্জনের পেছনে আরও পরিশ্রম করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

মাঠে গোল করার পর ইয়ামালের একটি বিশেষ উদযাপনও সমর্থকদের নজর কাড়ে। তিনি প্রায়ই হাত দিয়ে ‘৩০৪’ সংখ্যা দেখান, যা তার বেড়ে ওঠার এলাকা রোকাফোন্দার পোস্টকোডের শেষ তিন অঙ্ক। শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতেই এই উদযাপন করে থাকেন তিনি।

যাদের সম্মানে তার নাম রাখা হয়েছিল, সেই দুই শুভাকাঙ্ক্ষীর পরিচয় আজও প্রকাশ করেনি ইয়ামালের পরিবার। তবে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার স্মৃতি আজও বহন করছেন স্পেনের এই উদীয়মান তারকা।

এএন