ডিসেম্বরে ছাড় দেয়া হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২২, ০১:১৭ এএম

বিভাগীয় গণসমাবেশে ব্যস্ত বিএনপি। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর ও খুলনার পর গতকাল বরিশালে বিভাগীয় গণসমাবেশ শেষ করেছে দলটি। তবে বিএনপির চলমান বিভাগীয় এসব গণসমাবেশে বাধা না দিলেও আগামী ডিসেম্বরে দলটিকে আর ছাড় দিবে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

দলটির শীর্ষ নেতারা বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের নামে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় বিএনপি। এজন্য ডিসেম্বরে দলটিকে আর কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বাড্ডায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত শান্তি-সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। দেশব্যাপী বিএনপির ‘নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে’ এই শান্তি সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে শান্তি-সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য এ কে এম রহমত উল্লাহ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি প্রমুখ।

বিভাগীয় শহরগুলোতে একের পর এক সমাবেশ করতে থাকা বিএনপিকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সামনে ডিসেম্বর মাস। এই মাসে আপনারা (বিএনপি) নাকি শেখ হাসিনাকে হটিয়ে খালেদা জিয়াকে নিয়ে আসবেন! ইরানের ইমাম খোমনি স্টাইলে ঢাকার রাজপথে বিপ্লব ঘটাবেন! আমরা বলতে চাই এখন ছাড় দিচ্ছি, ডিসেম্বরে ছাড়ব না। মুক্তিযুদ্ধের মাসে রাজপথ বিএনপির থাকবে না, থাকবে আওয়ামী লীগের।

এই রাজপথ মুক্তিযুদ্ধের রাজপথ, বিজয়ের মাসের রাজপথ, বিজয়ের চেতনার রাজপথ। জনতার শক্তির কাছে আপনাদের এই রঙিন খোয়াব কর্পূরের মতো উবে যাবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা ভুলে যান। নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে হবে। তত্ত্বাবধায়কের ভূত মাথা থেকে নামিয়ে ফেলেন। এটি আর হবে না। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ আদালত নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের কোনো দোষ নেই। ওইটা জাদুঘরে চলে গেছে।

ডিসেম্বর মাসে  ‘খেলা হবে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বরে মোকাবিলা হবে, আন্দোলনে হবে, আগামীতে নির্বাচনে হবে। ভোট চুরি, দুর্নীতি, লুটপাট ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে খেলা হবে। খেলা হবে খুনিদের বিরুদ্ধে, ১৫ আগস্টের খুনিদের বিরুদ্ধে, ২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড বিএনপির বিরুদ্ধে।

ঢাকার শান্তি সমাবেশ জনস্রোতে পরিণত হয়েছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখানে এসে বরিশালে বিএনপির সমাবেশের কথা ভাবছি। তারা টাকা দিয়ে ছয় জেলার লোক নিয়ে দুই-চার দিন আগে থেকে বরিশালে জমায়েত করেছে। আর ঢাকায় আমাদের এখানে ছয় থানার লোক, যা বরিশালের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। আমার সামনে মিছিলের মাথা কোথায় জানি না। পেছনের মাথা আমেরিকান দূতাবাস পর্যন্ত গেছে। বিদেশিদের কাছে নালিশ করে, তারা এখানেই থাকে। তারা দেখুক কার কত শক্তি।

সমাবেশে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, এদেশের আর একটি মানুষের ওপর আঘাত করলে একশ মানুষের আঘাত নেয়ার জন্য আপনাদের (বিএনপির) প্রস্তুত থাকতে হবে। যতই ষড়যন্ত্র-বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করবেন আমরা তা সফল হতে দেব না।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, এ দেশে অগ্নিসংযোগ করেছেন, বাসে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন, দেশে লুটপাট করেছেন আপনারা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। আওয়ামী লীগ করার অপরাধে মানুষের হাত-পা কেটেছেন, বাড়ি-ঘরে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন। এদেশের মানুষ বিএনপির এই অপরাজনীতিগুলো এখনো ভুলে যায়নি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। জনগণকে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গত ১৪ বছর দেশ পরিচালনা করছে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে। তা বিএনপির ভালো লাগে না। তাই তাদের ভালো লাগার ওষুধ দিয়ে তাদের ভালো লাগাতে হবে। এই দেশের মুক্তিযুদ্ধের শক্তির ওপর আঘাত এলে পাল্টা আঘাত দেয়ার জন্য নেতাকর্মীদের সবসময় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ডিসেম্বরে ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, সমাবেশের নামে তারা যদি আবার কোনো উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায় তাহলে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে ওই কেরানীগঞ্জের কারাগারে আমরা দেখব। সেটাই হলো বিএনপি নেত্রীর যথাযথ স্থান। দেশ থেকে পালানো তারেক রহমানের নির্দেশে যারা দেশেকে অস্থিতিশীল করতে চায় ঢাকাবাসী তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করবে। এ বিশ্বাস আমাদের রয়েছে।