Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

‘পি কে হালদারকে দেশে ফেরাতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ 

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ১৪, ২০২২, ০৭:৪৪ পিএম


‘পি কে হালদারকে দেশে ফেরাতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ 
ফাইল ছবি

পি কে হালদারকে দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

শনিবার (১৪ মে) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পি কে হালদারের গ্রপ্তারের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, পি কে হালদারকে দেশে ফেরত আনার বিষয়ে এখনো আমরা আনুষ্ঠানিক কোনো প্রসেসিং শুরু করিনি। এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ। তারাই পি কে হালদারকে দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবে। দেশে নিয়ে এসে দুদকের মুখোমুখি করা হবে। তবে যারাই দেশের টাকা বিদেশে পাচার করুক না কেন, তারা দেশের শত্রু।

এ ক্ষেত্রে পি কে হালদারকে ফেরত আনার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখ্য আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, পি কে হালদারের বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি মামলা করা হয়েছে মানি লল্ডারিং আইনে। এর মধ্যে একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে বিচার চলছে। বাকিগুলোতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে।  

তিনি বলেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুসরণ করতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেব।

এদিকে, বিষয়টিতে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইডস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, আমাদের দেশের সঙ্গে ভারতের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। আমাদের দেশ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অনেক আসামিকে ফেরত নিয়েছে ভারত। আমরাও ফেরত এনেছি অনেক আসামিকে। বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুসরণ করে এটা করা হয়েছে। আমরাও চাইলে পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবো। এটা সরকারের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।

শনিবার (১৪ মে) সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অভিযান চালিয়ে পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করে দেশটির গণমাধ্যমগুলো। ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি) বিভাগের ওই অভিযানে পি কে হালদার ছাড়াও তার ভাইসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, শিব শংকর হালদার নামে ছদ্মবেশ ধরে ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আত্মগোপনে ছিলেন পি কে হালদার।

এর আগে গতকাল শুক্রবার (১৩ মে) দেশটির উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বেশ কয়েকটি বাসায় ওই অভিযান চালানো হয়। একই সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েকটি এলাকাতেও পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয় বলে খবর প্রকাশ করেছিল ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।

পৃথক ওই অভিযানে পি কে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা, পৃতিশ কুমার হালদার, প্রাণেশ কুমার হালদার ছাড়াও তাদের সহযোগীদের নামে থাকা বাড়ি ও সম্পত্তিতে হানা দিয়েছিল ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি) বিভাগ।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ পর্যন্ত মোট ৩৪টি মামলা করেছে দুদক। এগুলোর মধ্যে একটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলও করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আরও তিনটি অভিযোগপত্র কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।

মামলায় আসামিদের মধ্যে ১৩ জনকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১১ জন আসামি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি ৬৪ জনের বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আদালতে।