১৯৯টি কলেজ সরকারিকরণ ইতিবাচক উদ্যোগ

দেশের ১৯৯ টি বেসরকারি কলেজ সরকারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে এ সব কলেজে নিয়োগ বন্ধ করে পৃথক পৃথক পরিদর্শন প্রতিবেদন জমা দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ঈদের ছুটির আগে ৩০ জুন মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা দিলেও ১০/৭/১৬ তারিখে শিক্ষমন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এ সব কলেজ সরকারি করার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। এখন আনুষ্ঠানিকতা গুলো শেষ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে যে, যে সব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই, সে গুলোতে একটি করে কলেজ সরকারি করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সব কলেজের আত্তীকৃত হওয়া শিক্ষকেরা আপাতত অন্য কলেজে বদলি হতে পারবেন না।

অনেক হঠকারিতা, অনেত রক্তপাত, জীবন ক্ষয়ের মধ্যে সরকারের তরফ থেকে এই খবরটি সুখবর। একই সঙ্গে দেশের ১৯৯টি কলেজ সরকারিকরণ করা অত্যন্ত বড় মাপের খবর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর ুরহমান একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক, গণমুখী নীতিমালার ভিত্তিতে প্রাইমারি শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেছিলেন। প্রাইমারিতে বিনা মূল্যে বই বিতরণের ব্যবস্থা করেছিলেন। ‘ড. কুদরত-ই-খুদা’ শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদনে লেখা আছে, ধীরে ধীরে শিক্ষার দায়িত্ব সরকারের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে শিক্ষার অবকাঠমোগত অনেক উন্নতি হয়েছে। ১৯৯ টি কলেজ সরকারিকরণ করা এরই একটি ধারাবাহিক ফলশ্রুতি। এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান শিক্ষানীতিকে সংকুচিত করে ফেলেছিলেন। জেনারেল এরশাদ তার আমলে এলোপাতড়ি দৃষ্টিতে এক এক এলাকায় গিয়ে মধ্যযুগের রাজা-বাদশাহর মতো এক একটি কলেজকে সরকারি ঘোষণা করে আসতেন। এই সব ঘোষণার কোনো নীতিমালা ছিলো না। তোষামোদ কারিরা এরশাদের জিব্বা থেকে এই ঘোষণা আদায় করে নিতেন। শেখ হাসিনা এ পথে না গিয়ে সুষ্ঠু নীতিমালার ভিত্তিতেই ঘোষণা দিয়েছেন।

এক একটি উপজেলায় এখন অনেকগুলো কলেজ হয়েছে এলাকা কেন্দ্রিক রেশারেশির ভিত্তিতে। এর মধ্যে থেকে কোন ক্রাইটরিয়ায় কোন কলেজটিকে সরকারি করা হবে তা আমরা জানতে পারিনি। এই বিষয় নিয়ে কলহপ্রিয় বাঙালি জাতির মধ্যে একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু কিনা, সেটা দুশ্চিন্তার বিষয়। সহজ একটি বিষয় শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ মাথায় রাখতে পারেন যে, যে কলেজটি সর্বাধিক পুরোনো তাকে প্রায়োরিটি দিতে পারেন। ওই কলেজে কয়েটি বিষয়ে অনার্স খোলার শর্ত দিতে পারেন। ধীরে ধীরে মাস্টার ডিগ্রি খোলার পথ প্রশস্ত করে দিতে পারেন। চতুর তোষামোদকারিদের তদবিরে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম, কোনো ধরনের অবিচার না হয়, সেই দিকে কড়া নজর দেবার জন্য আমরা বিনীত অনুরোধ জানাবো।
১৯৯টি কলেজকে সরকারিকরণ করার ঘোষণা শুনতে যত শ্রুতিমধুর, কাজটি সুসম্পন্ন করা অত সহজ নয়। শিক্ষকদের সুবিধা ধরিয়ে দেয়াই বড় উদ্দেশ্য হতে পারে না, উদ্দেশ্য হবে শিক্ষকদের উন্নতি সহ সামগ্রিক শিক্ষাকাঠামোর উন্নতি। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষকদেরই স্বাগত জানানো উচিত আগে। তারা অধিকতর দায়িত্বশীল হয়ে, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে, মুক্তি যুদ্ধের চেতনাকে প্রায়োরিটি দিয়ে ছেলেমেয়েদের সুনাগরিক করে গড়ে তুলে সরকারকে তার প্রতিদান দিতে পারেন সম্মানিত শিক্ষকরা। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড, শিক্ষকগণ জাতির অভিভাবক। একটি জঙ্গিমুক্ত,সোনার বাংলা গড়ে তোলা শিক্ষদেরও দায়িত্ব।