জঙ্গিবাদ ছাড়লে সহযোগিতা করা হবে আইজিপির ঘোষণাকে স্বাগত

 গত বুধবার পুলিশ সদর দফতরে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক বলেন, জঙ্গি সংগঠন থেকে বা জঙ্গিবাদের পথ থেকে বিপথগামী যুবক ও তরুণরা ফিরে আসলে তাদের সহযোগিতা করা হবে। পুলিশ তাদের ছেড়ে দেবে। হয়রানি করবে না- যদি তারা আর কোনো অপরাধ না করে।

আইজিপি আরো বলেন, যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন জঙ্গিবাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে নির্মূলে পুলিশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদকে ছড়িয়ে দিতে যে সব অশুভ শক্তি কাজ করছে তাদেরও নির্মূল করা হবে। এ দেশের মাটিকে নিরাপদ রাখতে আমরা কঠিন প্রতিজ্ঞা করেছি। তিনি আরো বলেন, গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গিরা পুলিশ হত্যার পর জঙ্গি নির্মূলে পুলিশের মনোবল আরো দৃঢ় হয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গিদের মূলোৎপাটন করা হবে। জঙ্গিদের নির্মূলে সম্প্রতি চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জঙ্গিরা ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষ হত্যা করে। এটা কোনো ক্রমেই মেনে নেয়া যায় না। সম্মিলিত ভাবে জঙ্গিবাদ ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা হবে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের প্রথম বুলেট ছুঁড়ে প্রতিরোধ যুদ্ধ তৈরি করার ইতিহাস সবারই জানা। তেমনি বিভিন্ন সময়ে দুর্যোগে পুলিশ দায়িত্ব পালনে পিছ পা হয়নি। জীবন দিয়ে পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করে এটা প্রমাণ করেছে। গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে পুলিশের পক্ষ থেকে ৭০ লাখ টাকা নগদ অর্থ ও সঞ্চয়পত্র এবং মধুমতি ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা অনুদানসহ মোট ৯০ লাখ টাকা দেয়া হয়। আইজিপি একেএম শহিদুল হক ও মধুমতি ব্যাংকের সিইও এ সব তাদের হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান ও নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আইজিপির ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রজাতন্ত্রের তিনি একজন বিবেকি সেবক। তার কথায় কখনো গায়ের জোর বা অস্ত্রের জোর প্রকাশ পায় না।

সব সময় জনগণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে জঙ্গি নির্মূলের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। এটা তিনি যথার্থ উপলদ্ধি করেছেন যে, জঙ্গিবাদের যে ক্রমবিস্তার ঘটেছে তা দমন করতে হলে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশের জনগণকে জঙ্গিবিরোধী মটিভেশন দিয়ে যাচ্ছেন। সেই বিভ্রান্ত তরুণদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, ওই হঠকারি পথ ছেড়ে দিলে তাদের সহযোগিতা করা হবে। এমন একটি ঘোষণাকে আমরা সময়োপোযোগী বলে মনে করছি। অধিকাংশ জঙ্গিই বয়সে তরুণ। তাদের বেহেস্তের লোভ দেখিয়ে মগজ ধোলাই করা হয়েছে।

এদের বিরুদ্ধে শুধুই শক্তি প্রয়োগ না করে সু-পথে ফিরে আসার আহবান জানিয়ে তাদের ভালো কাজে পুরস্কার আর মন্দ কাজে তিরস্কার প্রদানের প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে। জঙ্গিদের ব্যাপারে প্রশাসন ও সরকারের দৃষ্টি হওয়া উচিত বজ্রের মতো কঠিন এবং কুসুমের মতো কোমল। শুধুই দমন ও এ্যাকশন কোনো কাজের কথা নয়। আমরা চাই জঙ্গি দমনের নামে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মতো জঙ্গিদের যেন ডিসপারেট করা না হয়। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জঙ্গিদের সু-পথে ফিরে আসার আহবান জানিয়েছেন। আহবান জানিয়েছেন শোলাকিয়ার ইমাম সর্বজন শ্রদ্ধেয় মওলানা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। আমরাও জঙ্গি তরুণদের বলি, তোমরা কায়েমীগোষ্ঠীর ভুল ব্যাখ্যায় কান না দিয়ে, সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে, জঙ্গিবাদের পথ ত্যাগ করে সুস্থ জীবনে ফিরে আস, জাতি তোমাদের বরণ করবে।