অবৈধ বিদেশিদের হাতে হাজার কোটি টাকা অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া হোক

১৬ তারিখের দৈনিক আমার সংবাদ জানাচ্ছে, ‘অবৈধ বিদেশিরাই নিয়ে যাচ্ছে হাজার কোটি টাকা।’ লাখ লাখ বিদেশি অবৈধভাবে এ দেশে কাজ করে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে। দেশের জন্য এটা যথেষ্ঠ উদ্বেগজনক খবর। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই ওই বিদেশিরা এ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে উপার্জিত টাকা নিজ দেশে পাঠাচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ২ লাখের মতো বিদেশি অবৈধভাবে অবস্থান করছে। এর বেশিরভাগ ভারতীয়, এরপর শ্রীলঙ্কার নাগরিকও আছে। তবে সিপিডি তথ্য প্রদান করে জানিয়েছে, ভারতেরই ৫ লাখ নাগরিক আছে বাংলাদেশে। তারা ২০১৫ সালের মধ্যে নিয়ে গেছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। যে দেশেরই হোক, অবৈধ বিদেশি নাগরিকরা দেশে নানা ধরনের বিপত্তি ঘটাতে পারে এবং ঘটাচ্ছে। অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশা-পাশি আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ বিদেশিরা। অথচ দেশে অবস্থানরত বিদেশিদের কোনো পরিসংখ্যান নেই সরকারি সংশ্লিষ্ট দফতরে। ফলে সরকারি কোনো দফতরই বিদেশি অবৈধ নাগরিক সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছে না। 

একটি সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, এ দেশের ৩ টি প্রতিষ্ঠান থেকে বিদেশিদের কাজের অনুমতি দেয়া হয়। সে গুলো হোলো- বিনিয়োগ বোর্ড, বেপজা এবং এনজিও ব্যুরো। কিন্তু ওই তিন প্রতিষ্ঠানের তথ্যানুযায়ী এ দেশে বৈধ ভাবে মাত্র সাড়ে ১৬ হাজার বিদেশি বাংলাদেশে কাজ করছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে দেশে অবস্থানরত বিদেশিদের সংখ্যা ২ লাখের বেশি। প্রতিবছর ওই বিদেশিরা ৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী এ দেশে বিদেশির সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজার। তিন প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া যে সব বিদেশি এ দেশে কাজ করছেন তারা অবৈধ। আর অবৈধ অনেক বিদেশিই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকের এটিএম কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। জাল টাকা তৈরির অপরাধে শ্রীলঙ্কার কয়েকজন নাগরিককে আটক করা হয়। তাছাড়া প্রতারণা, জালিয়াতি, মাদক ও যৌন ব্যবসাসহ এমন কী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যও পাচার করছে, এমন অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তার প্রশ্নে অবৈধ বিদেশিদের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।
কারণ বিদেশিদের অবৈধভাবে থাকার ব্যাপারটি খুবই উদ্বেগ জনক। এর আগেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের ৫৫টি দেশের নাগরিক কাজ করছে। এর মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা বেশি। প্রতিবেশি দেশ থেকে বেশি নাগরিক আসাই স্বাভাবিক। তারা মূলত গার্মেন্টস ও বস্ত্রখাতে জড়িত। বিনিয়োগ বোর্ড থেকে অনুমতি নিয়ে ১৪ হাজার বিদেশি নাগরিক কাজ করছে। বেপজার অনুমতি নিয়ে ২ হাজার এবং এনজিও ব্যুরো থেকে অনুমতি নিয়ে আরো ৫০০ বিদেশি নাগরিক কাজ করছে। তাছাড়া বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি এ দেশে অবৈধভাবে কাজ করছে। বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্স এরা দেশের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতি জখম হচ্ছে। ২০১৫ সালেই ওই সব বিদেশি ৪০ হাজার কোটি টাকা বাইরে নিয়ে গেছে। এই টাকা কাজে লাগানো যেতো বিভিন্ন প্রকল্পে। এ ব্যাপারে সরকারের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। যে দেশেরই হোক, অবৈধভাবে এ দেশে অবস্থান করলে তার সুদূরপ্রসারী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। এমনিতে জঙ্গিরা আমাদের দেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে, এর ওপর অবৈধ বিদেশিদের সম্পর্কে উদাসিন থাকলে আরো বিপজ্জনক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।