সঞ্চয়পত্রে স্বল্প আয়ের মানুষের সুযোগ উদ্যোগটির সফলতা কাম্য

ব্যাংকের নিয়ম আমরা জানি, সুদ দেবে কম নেবে বেশি। ব্যাংক গ্রাহকদের টাকা পাহারা দেবার কাজ করে কিন্তু লভ্যাংশ দেয় নামে মাত্র। এ জন্য অসংখ্য মানুষ একটু লাভের প্রত্যাশায় বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানে টাকা রেখে সর্বশান্ত হয়েছে। সেই তুলনায় সরকারি সঞ্চয়পত্র কিনে টাকা বিনিয়োগ করে গ্রাহকরা ব্যাংকের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ পাচ্ছেন। মোট হিসেবে তিন বছর মেয়াদে তিন মাস পর পর লভ্যাংশ উত্তোলন করলে পাওয়া যেতো প্রতি লাখে ১০০০ টাকা। অতি সম্প্রতি তা থেকেও কর্তন করা হয়েছে। এখন দাঁড়িয়েছে প্রতি লাখে ৯০০ টাকারও কম।

এরপরও মানুষ উল্লেখযোগ্য হারে সঞ্চয়পত্র কিনে টাকা বিনিয়োগ করছে। আর যাবে কোথায়? এই প্রেক্ষিতে গতকাল ১৮ অক্টোবর সহযোগী একটি দৈনিক জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে ছোট ছোট গ্রাহকদের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে। একেবারে নিম্নবিত্তদের সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড সম্পর্কে ধারণা দিতে পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুসারে প্রতিটি জেলায় স্বল্প আয়ের পেশাজীবীদের নিয়ে সভা সেমিনার করে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে বলে সূত্রটির দাবি। যেখানে ঋণ করে ঘি খাওয়ার পথ দেখায় ধনকুবেররা, সেখানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, স্বল্প আয়ের মানুষকে তারা সঞ্চয়ী করতে চান। সঞ্চয়ের মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠলে তাদের এবং দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে। লক্ষ্য করা গেছে সঞ্চয়পত্র কিনে লাভবান হচ্ছে স্বচ্ছল মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা। যাদের সংসারে কোনো টানাটানি নেই।

অথচ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদেরও আজকাল সঞ্চয় প্রবণতা বেড়েছে। তারাও দুর্দিনের কথা ভেবে নিরাপদ সঞ্চয় করতে চান। কিন্তু সেই সঞ্চয় করতে অপাত্রে রাখা হয়, যেখানে নিরাপত্তা নেই। সঞ্চয় অধিদপ্তর সামাজিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা ভেবেই এ সব মানুষকে সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড কিনতে উৎসাহী করার চেষ্টা করছেন। সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, এ লক্ষ্যে সম্প্রতি খুলনা এবং বরিশালসহ অন্যান্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে কিছু প্রাইজবন্ড নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে উঠান বৈঠক করা হয়েছে। প্রাইজবন্ড কেনার নানান সুবিধার কথা তুলে ধরা হচ্ছে তৃণমূলের মানুষদের মধ্যে। সঞ্চয়পত্র কিনতে কাগজপত্র লাগলেও প্রাইজবন্ড কিনতে কিছুই লাগে না বলে উঠান বৈঠকে প্রাইজবন্ড বেশি বিক্রি হচ্ছে। তৃণমূলের মানুষরাতো সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ডের সুবিধা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, এ সব তৎপরতায় স্বল্পমূল্যের সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। এই তৎপরতা পরিবৃদ্ধির জন্য সঞ্চয় অধিদপ্তর গত সপ্তায় প্রতিটি জেলার ব্যুরো অফিসসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৭টি বিশেষ ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংক, ডাকঘর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থানে চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে প্রতিমাসে ৫ হাজার, ১০ হাজার, ২০ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র বিক্রির হিসাব পাঠাতে বলা হয়েছে। বড় বিনিয়োগকারীদের পরিবর্তে স্বল্প আয়ের বিনিয়োগকারীদের আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। সঞ্চয় দপ্তরের সূত্র জানাচ্ছে, মাঠ পর্যায়ে ঘুরে জানা গেছে তৃণমূলের অধিকাংশ মানুষ সঞ্চয়পত্রের সুবিধা, লভ্যাংশ এবং নিয়ম কানুন সম্পর্কে কিছুই জানে না। এই সুবিধাটা একচেটিয়াভাবে ভোগ করে বিত্তবানরা।

আমরা সঞ্চয় অধিদপ্তরকে অভিনন্দন জানাই, এই উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য। আমরা আন্তরিকভাবে চাই স্বল্প আয়ের মানুষরা মাটির ব্যাংক ভেঙে, বালিশের তলা থেকে সঞ্চিত টাকা দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনে লাভবান হোক। তারা প্রতারণার খপ্পর থেকে বাঁচুক, তাদের সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি পাক। ক্ষুদ্র ঋণ নয়, বেড়ে যাক ক্ষুদ্র সঞ্চয়পত্র কেনার আগ্রহ।