আওয়ামী সম্মেলনে বিএনপিকে আমন্ত্রণ গণতন্ত্রের পথ সুগম হোক

শনিবার, ২২ অক্টোবর শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন। এই সম্মেলনে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত ব্যতীত বাংলাদেশের প্রায় সব দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রণপত্র পেয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মীর্জ ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি অনুযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তাদের ধন্যবাদ। আমরা খুশি হতাম যদি তারা বিএনপির কাউন্সিলে আসতেন। দুঃখজনক হলেও সত্য তারা শুধু আসেনইনি; তারা বিভিন্নভাবে বিএনপির কাউন্সিলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। বিএনপি প্রত্যাশা করেছিলো অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো আওয়ামী লীগ বিএনপির কাউন্সিলে আসবেন; গণতান্ত্রিক রাজনীতির শুভ সূচনা করবেন। কারণ তারাই বর্তমানে ক্ষমতায়। বিএনপি ইতিবাচক রাজনীতি করে এবং বিশ্বাস করে। আমন্ত্রণ পেয়েছি, সিদ্ধান্ত নেবো কী ভাবে অংশগ্রহণ করা যায়।

বিএনপির কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার পথে কীভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি করেছিলো আওয়ামী লীগ, তা আমাদের জানা নেই। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব যে অনুযোগ করেছেন তার সঙ্গে আমরা সহমত পোষণ করি। বিএনপির জাতীয় সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেয়েও যোগদান না করা ঠিক হয়নি ক্ষমতাসীন দলের। জনগণের দল আওয়ামী লীগ অনুদারতা দেখাতে পারে না। তেমনি ঠিক করেননি বেগম জিয়াও। আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে সান্ত¡না জানাতে গিয়েছিলেন, কিন্তু বেগম জিয়া তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নি। এই সব ছোট খাটো ভুল, মান-অভিমান, রেশারেশি উভয় দলেই আছে। উভয় দলেরই উচিত রাজনৈতিক চিন্তায় সংকীর্ণতা পরিহার করা। রাজনীতিকে ব্যক্তিগত হিংসা-প্রতিহিংসা, রেশারেশির পর্যায়ে টেনে আনা উচিত নয়। পৃথিবী যেমন গোল, রাজনীতির অঙ্গনও গোল, দেখা হয়ে যায় একে অপরের সঙ্গে।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে দুই দল এক হয়ে ভূমিকা পালন করেছে, আমরা তা ভুলে যাইনি। ১/১১-র পর দুই দল কাছাকাছি এসেছিলো তাও আমরা ভুলে যাইনি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপিকে তাদের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়ে ভালো করেছে। আমরা আশা করবো, বিএনপি আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে যোগদান করে ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। রাজনৈতিক সৌজন্যের সংস্কৃতি চর্চা করা একান্ত দরকার। বিভিন্ন উপলক্ষে রাজনৈতিক দলের প্রধানদের দেখা-সাক্ষাৎ হওয়া, প্রাণখুলে কথা বলা, হাসিঠাট্টা করার প্রয়োজন আছে। এতে রাজনীতির মাঠ থেকে ধীরে ধীরে জেঁদাজেঁদি ও প্রতিহিংসা কমে আসবে। আমরা ইদানিং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ লক্ষ্য করছি। একে অপরের বিরুদ্ধে অশালীন অভিযোগ পর্যন্ত করেছেন। তার ভিত্তিও আছে। কিন্তু তারা একে অপরকে শত্রু বলে চিহ্নিত করেননি। তাদের প্রতিযোগিতার মধ্যে প্রতিহিংসা নেই বললেই চলে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দ্বারা আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সারা মধ্যপ্রাচ্য ও পাকিস্তান রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জর্জরিত। আমরা প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি চাই। বিএনপির এক নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগ দুর্নীতির টাকা দিয়ে সম্মেলন করছে, এ কথাটি না বললেও পারতেন। এ সব অপ্রাসঙ্গিক কথায় ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে। পরস্পর মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়। বৈরিতা বাড়ে।

আমরা আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনের সাফল্য কামনা করি, একই সঙ্গে স্েম্মলনে বিএনপির যোগদান মনেপ্রাণে কামনা করি। একজনের সালামের উত্তর দেয়া যেমন নির্ভুল, তেমনি কারো আমন্ত্রণ রক্ষা করাও নির্ভুল।