আওয়ামী লীগ’র নতুন কমিটি আমাদের অভিনন্দন

আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে ৮ম বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। এ নিয়ে কোনো সংশয় ছিলো না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রী, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ম-লীর সদস্য, লড়াকু মানুষ ওবায়দুল কাদের। বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি আশা করে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাজ করবেন। আমাদের ধারণা, বিএনপি আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যোগদান না করে যে সমালোচনার মুখে পড়েছে, নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে তার কিছুটা পূরণ করেছে। তবুও সৌজন্যের সেতু রক্ষা পেলো। আমরা আশা করবো, আগামীতে উভয় দলই রাজনীতিতে পরস্পরের প্রতি সৌজন্য বিনিময়ের পথ খোলা রাখবে।

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদেরকে আমরা অভিনন্দন জানাই। তাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করায় দলের অগণিত কর্মি-সমর্থকের মনের আশা পূরণ হয়েছে। ওবায়দুল কাদেরের তৎপরতা দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলো। তাঁর সততাও এখন পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ হয় নি। কারো মুখের দিকে না তাকিয়ে উচিত কথা বলার সৎসাহস ওবায়দুল কাদেরের আছে। এই সদগুণটিও মানুষ লক্ষ্য করেছিলো। ছাত্রনেতা থেকে দলের একেবারে শীর্ষপদে তিনি তাঁর নিজের যোগ্যতায় চলে এসেছেন। তিনি শুধু জেল খাটেননি, জেলে বসে বই লিখেছেন।

দৈনিক বাংলার বাণীতে তার কলামগুলো জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলো। সেখানেও তিনি উচিত কথা বলতেন। অত্যন্ত দুঃসময়ে ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছিলেন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন বাহলুল মজনুন চুন্নু। দলের ঘোরতর কোন্দলের মধ্যেও তিনি ভারসাম্য রক্ষা করে চলতেন। তার বক্তৃতার স্টাইল জ্বালাময়ী কিন্তু যুক্তির গাঁথুনিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ। মেধাবী ছাত্র ছিলেন। চমৎকার ইংরেজি বলতে পারেন। অসাধারণ কা-জ্ঞানের অধিকারী। একজন ভালো লেখকও তিনি। মাঠ পর্যায় থেকে উঠে আসা ওবায়দুল কাদের তৃণমূলের কর্মিদের সঙ্গে সুন্দর, মার্জিত, ধৈর্যশীল আচরণ করবেন বলে তৃণমূলের কাউন্সিলররা তাকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে এত বড় দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত করেছেন। দলকে গতিশীল করতে হলে মাঠপর্যায়ের কর্মিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ এবং সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক লাগবেই। অনেক বড় বড়, প্রতিভাবান মানুষেরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

শামসুল হক, বঙ্গবন্ধু, আমেনা বেগম, তাজউদ্দীন আহমদ, জিল্লুর রহমান, জননেতা আবদুর রাজ্জাক, আব্দুল জলিল। ভালো-মন্দ মিলিয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের দুঃসময়ের কা-ারি তিনি। দলের ইতিহাসে তার নাম উজ্জ্বলভাবেই লেখা থাকবে। ওবায়দুল কাদেরকে অতীতের স্বর্ণখনি থেকে ঐতিহ্য আহরণ করে আওয়ামী লীগকে নতুন মূল্যবোধের আলোকে গড়ে তুলতে হবে। সহযোগী দৈনিকে জনপ্রিয় কলাম লেখক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের সমস্যগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের চেয়ে দল পিছিয়ে আছে, দলের চেয়ে ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেশি।

কথাগুলো ওবায়দুল কাদেরকে উপলব্ধি করতে হবে। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তিনি। তাকে ছাত্রলীগের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কথায় কথায় ছাত্রলীগ বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। ছাত্রলীগ মূল দলের ভাইটাল ফোর্স। এই ফোর্সকে নিয়মের মধ্যে রাখা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।
বঙ্গবন্ধু সাহসী পদক্ষেপগুলো নিতেন ছাত্রলীগের ওপর নির্ভর করে। ওবায়দুল কাদের সে দিকটি ভেবে সাধারণ সম্পাকের দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমরা আশাবাদী। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদককে আবারও অভিনন্দন।